advertisement
আপনি দেখছেন

ম্যাচটার ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস শেষেই। ছয় উইকেট খরচায় জিম্বাবুয়ের কাঁধে ৩২১ রানের বোঝা চাপিয়ে দেয় টাইগাররা। স্বাভাবিকভাবেই চাপটা নিতে পারেনি সফরকারীরা। ন্যূনতম লড়াইটুকু করার সুযোগও তাদের দেয়নি বাংলাদেশ। আজ জিম্বাবুয়ের ১৬৯ রানে রেকর্ড (সর্বোচ্চ) ব্যবধানে জিতেছে টাইগাররা।

bangladesh celebration 2020

রানের হিসেবে ওয়ানডেতে এটাই সবচেয়ে বড় জয় টাইগারদের। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিক শিবির। আগামী মঙ্গলবার তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ছয় উইকেটে ৩২১ রান জমা করে বাংলাদেশ। জিম্বাবুইয়ানদের বিরুদ্ধে এটাই সর্বোচ্চ সংগ্রহ মাশরাফিদের। হিমালয়তুল্য রানের জবাব দিতে নেমে সাইফুদ্দিনদের তোপে ইনিংসের ৬৫ বল বাকি থাকতে ১৫২ রানে গুটিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। তাতে টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পর ওয়ানডেতে স্বস্তির জয়ে ফিরল টাইগাররা।

বাংলাদেশের রানপাহাড়ের জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই কাঁপতে থাকে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের দশম বলে ধাক্কা খায় তারা। ওপেনার তিনাসে কামুনহুকাম্ভের স্টাম্প ওড়ান ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। একটু পর জিম্বাবুয়ে শিবিরে আঘাত হানেন নয় মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা মাশরাফি বিন মর্তুজা।

‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ ফেরান প্রতিপক্ষ অভিষিক্ত অধিনায়ক চামু চিবাবাকে। ১০ রানে ফিরেছেন চিববা। তার সঙ্গী ফিরেছেন এক রানে। অতিথি অধিনায়ক প্রস্থানের পরের ওভারেই রেজিস চাকাভা সাইফুদ্দিনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ২৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে তখন পুরোদস্তুর কাঁপছিল জিম্বাবুয়ে।

স্বাভাবিকভাবেই উইকেটের লাগাম টেনে ধরতে টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করে সফরকারীরা। কিন্তু সেই প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেন আবার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেলরকে ক্লিন বোল্ড করেন বাঁ-হাতি স্পিনার। ৪৪ রানে চার উইকেট শেষ জিম্বাবুয়ের। ইনিংস তখন ১৪ ওভারের।

পরে মিডল অর্ডার ‍দুই ব্যাটসম্যান ওয়েসলি মাদিভেরে ও সিকান্দার রাজা সম্মানজনক হার ঠেকাতে লড়াই শুরু করেন। কিন্তু টিকতে পারেননি একজনও। মাদিভেরে দলীয় সর্বোচ্চ ৩৫ রান করে ফিরেছেন। তার সঙ্গী রাজা আউট হন ১৮ রানে। ৮৪ রানে ছয় উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের বিব্রতকর হার নিশ্চিত যায় তাতেই।

শেষ দিকে জিম্বাবুয়ের লোয়ার অর্ডার বাংলাদেশের জয়ের আপেক্ষা শুধু দীর্ঘায়িতই করেছেন। টিনোটেন্ডা মুতুম্বজি ২৪ বলে ফেরেন মাশরাফির শিকার হয়ে। তার আগেই চার্ল মুম্বা ফেরেন ব্যক্তিগত ১৩ রানে। এ ছাড়া রিচমন্ড মুতুম্বামি ফেরেন ১৭ রানে। বাংলাদেশে বোলারদের পক্ষে সবচেয়ে সফল সাইফুদ্দিন।

সাত ওভারে ২৩ রানে তিন উইকেট নিয়েছেন তিনি। প্রথম পাঁচ ওভারে ছয় রান দেওয়ার ছন্দটা শেষ অবধি ধরে রাখতে পারেননি সাইফুদ্দিন। দুটি শিকার মেহেদি হাসান মিরাজের। জিম্বাবুয়ের শেষ উইকেটটি নিয়ে ডাবলস পূরণ করেন মাশরাফি। অপেক্ষা ঘোচালেন টানা আট ম্যাচের উইকেট খরার।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি করেছেন লিটন দাস। হাফসেঞ্চুরি আসে মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাট থেকে। ব্যাট করতে আসা বাকি প্রায়সবাই রান পেয়েছে কম-বেশি। তাতেই ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ পেয়েছে সর্বোচ্চ অষ্টম সংগ্রহ। এর আগে এই দলটার বিপক্ষে ২০০৯ সালে ৩২০ রান করেছিল টাইগাররা।

বাংলাদেশের শুরুটা ভালোই হয়েছে। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল ও লিটন দাস এনে দিলেন দুর্দান্ত এক ভিত। তামিম ফিরে গেলেন অল্পতে; উইকেটে থিতু হওয়ার পর। ২৪ রানে ফিরেছেন তামিম। ১৩তম ওভারে দলীয় ৬০ রানে ভাঙে জুটি। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে লিটন গড়েন ১৪০ রানের জুটি। যেখানে শান্তর অবদান ২৯।

ততক্ষণে পুরোদস্তুর আগ্রাসী মেজাজে লিটন। জিম্বাবুইয়ান বোলারদের বিরুদ্ধে ধারণ করেন অগ্নিরূপ। বিধ্বংসী ইনিংসে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তার আগের শতকটি ছিল ২০১৮ সালে; ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালে। লিটন অবশ্য আউট হননি। তবে দেড় শ’র আশা জাগিয়ে ফিরে গেছেন চোট নিয়ে।

শতকের ইনিংসের দ্বিতীয় ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে পেশীর টান লাগে তার। লিটন আর ফিরতে পারেননি। ১০৫ বলে ১২৬ রানে থামতে হয় তাকে। ইনিংসে ১৩টি বাউন্ডারি রয়েছে তার। তখন দলের সংগ্রহ দুশো ছাড়িয়েছে। অবশ্য লিটন ফিরে গেলেও অন্যরা ঠিকই পুষিয়ে দিয়েছেন। মাহমুদউল্লাহ ৩২ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন।

৫০ রানে ফেরেন মিঠুন। ফেরার ম্যাচে পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটালেন। ১৫ বলের ইনিংসে তিন ছক্কায় ২৮ রান করেছেন সাইফুদ্দিন। তার তাণ্ডবে অনেকটাই আড়ালে থেকে গেছেন মাশরাফির নয় মাস পর মাঠে ফেরাটা। ইনিংসের সাত বল বাকি থাকতে ব্যাটিংয়ে নামেন সাম্প্রতিককালের বহুল আলোচিত এই অধিনায়ক।

গ্যালারি থেকে তার নামের গগনবিদারী চিৎকার হলেও হতাশ হতে হলো দর্শকদের। স্ট্রাইকই পাননি মাশরাফি! পরে বল হাতেও হতাশ করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে খরুচে ছিলেন। শেষ দিকে স্বস্তির উইকেটটি নিয়ে এই মাশরাফিই গুটিয়ে দেন জিম্বাবুয়েকে। নিশ্চিত করেন ওয়ানডে ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ জয়ের।

টাইগারদের আগের জয়টি ছিল ১৬৩ রানের। ২০১৮ সালের শুরুতে মিরপুলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয়টি পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ নিজেদের ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস লিখলেন মাশরাফিরা। দুর্দান্ত এই জয়ের নায়ক সেঞ্চুরিয়ান লিটন।

sheikh mujib 2020