advertisement
আপনি দেখছেন

বাংলাদেশকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। অনেক ম্যাচে রেখেছেন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান। জাতীয় দলের দীর্ঘ এই পথচলায় তিনি হয়ে উঠেছেন ব্যাটিং বিভাগের অন্যতম সেরা ভরসা। সেই তিনিই এখন অনন্য এক অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শততম ম্যাচ জয়ের দারুণ এক রেকর্ড গড়ার অপেক্ষায় মুশফিক।

mushfiqur rahim 2029

রোববার জিম্বাবুয়ে ১৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচটা একদিনের ক্রিকেটে মুশির ৯৯তম জয়। আগামী মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ফের সফরকারীদের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলেই জয় সংখ্যায় তিন অংক ছুঁয়ে ফেলবেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

এমন একটা অর্জন যে ডাকছে তা মুশফিক নিজেও জানতেন না। এনিয়ে অনুভূতি কেমন জানতে চাইলে তার কষ্ঠে উচ্ছ্বাসের বিস্ময়, ‘তাই নাকি? জানতাম না তো। এটা দারুণ একটা ব্যাপার! দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলতে পেরেছি বলেই জয়ের সেঞ্চুরি হতে যাচ্ছে। সাকিব-তামিম এবং মাশরাফি ভাই অনেক বছর ধরে খেলতে যাচ্ছেন। আমার সৌভাগ্য, সবার আগে আমার ১০০তম জয় হতে যাচ্ছে।’

আজ সোমবার বাংলাদেশ দলের ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল বাংলাদেশ দলের। যদিও অনুশীলন যেমনই হোক, মুশফিক সাধারণত অনুশীলন মিস করেন না। ঢাকা টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা মুশি প্রথম ওয়ানডেতে রান সংখ্যায় যেতে পারেননি দুই অংকে। রান করার তাড়না আজ নেট অনুশীলনেও দেখা গেল তাকে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যাটিং অনুশীলন করে গেলেন তিনি।

এরপর শততম ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত অনুভূতির কথা প্রকাশ করলেন মুশফিক। তবে বরাবরের মতো দলকেই অগ্রাধিকার দিলেন তিনি, ‘জলের জয় আমার কাছে শেষ কথা। দলের একটি ১০০টি জয় দেখতে পারছি। এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হবে এটা।’ মুশফিক কি মাইলফলকের দেখাটা ২১৮তম ম্যাচেই পেয়ে যাবেন? অঘটন না ঘটলে এদিনই স্বপ্নপূরণ হবে তারা।

জয় সংখ্যায় মুশফিকের পেছনে আছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি। সেঞ্চুরি থেকে তিন জয় দূরে আছেন তিনি। তবে টাইগারদের প্রতিনিধি হিসেবে এক শ’তম ম্যাচ জয়ের জন্য তাকে আরো যেতে হবে পাঁচ ধাপ। বাংলাদেশের হয়ে ২১৬টি ম্যাচ খেলা মাশরাফির অন্য দুটি জয় এশিয়া একাদশের হয়ে। ওয়ানডেতে আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে দুবার জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি।

সাকিব আল হাসান ২০৬ ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশের জয় দেখেছেন ৯৪টি। তার চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ৮৬টি জয় তামিম ইকবালের। ১৮৬ ম্যাচে ৮৩টি জয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। পঞ্চপাণ্ডবের বাইরে বাংলাদেশ দলের জয়ের হাফসেঞ্চুরির নজির আছে দুজনের।

১৫৩ ওয়ানডেতে আব্দুর রাজ্জাক জয় পেয়েছেন ৬২টি। ১৭৫ ম্যাচে মোহাম্মদ আশরাফুল স্বাদ পেয়েছেন ৫৫টি জয়ের। সার্বজনীন রেকর্ড অবশ্য রিকি পন্টিংয়ের। ২৬২টি ওয়ানডে ম্যাচ জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি। তার মতো জয়ের ডাবলসেঞ্চুরি আছে আরো দশ ক্রিকেটারের।