advertisement
আপনি দেখছেন

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে রানপাহাড়ের চাপ। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে অবশ্য ভড়কে যায়নি জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছে সফরকারীরা। অবিশ্বাসের আভাস দিয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মাল্য বরণ করেছে তারা। আজ থ্রিলার লড়াইয়ে জিম্বাবুইয়ানদের চার উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিল টাইগাররা। আগামী ৬ মার্চ উইলিয়ামস-টেলরদের হোইয়াটওয়াশের মিশনে নামবেন মাশরাফিরা।

bangladesh celebration 2020 1

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে বিধ্বংসী এক সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে জিতিয়েছিলেন লিটন দাস। আজ সেই মঞ্চেই ডানহাতি ওপেনার আউট হয়ে গেছেন আগেই। তবে জ্বলে উঠেছেন আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল। এদিন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে বাঁ-হাতি ওপেনার ব্যাটিং করলেন আগ্রাসী মেজাজে। ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছাড়ালেন দেড় শ। নির্ধারিত ওভারে বাংলাদেশ তুলল আট উইকেটে ৩২২ রান।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই কঠিন বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ৬৭ রানের মধ্যে তাদের তিন উইকেট তুলে নেয় টাইগাররা। এই বিপর্যয় সামলে ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। নির্ধারিত ওভার শেষে আট উইকেটে ৩১৮ রান তুলতে সক্ষম হয় সফরকারীরা। শেষ তিন ওভারে ৪৩ রানের সমীকরণ ছিল তাদের সমানে। শেষ ওভারে তা নেমে আসে কুড়ি রানে।

শেষ দুই বলে ছয়। রূপকথার আভাস দিচ্ছিল জিম্বাবুয়ে। যদিও তা হতে দেননি আল আমিন হোসেন। দুর্দান্ত দুই ডেলিভারিতে বাংলাদেশকে জেতান আল আমিন। টাইগারদের দুর্দান্ত জয়ের নায়ক তামিম। তার ক্যারিয়ার সেরা ১৫৮ রানের ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়েই রানের পাহাড় গড়েছে স্বাগতিকরা। পাল্টা জবাবে অবশ্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি জিম্বাবুয়ের কেউ।

তবে চার হাফসেঞ্চুরির সুবাদে কী লড়াইটাই না করল সফরকারীরা। জিম্বাবুইয়ানদের লড়াইয়ের সাহসটা দেখিয়ে গেছেন ওপেনার তিনাসে কামুনকাম্বে। ৬৭ রানের মধ্যে তিন সতীর্থের বিদায়ের পর একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন তিনি। পঞ্চম ম্যাচে এসে তিনি পেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতকের দেখা। ৫১ রান করে তাইজুল ইসলামের শিকার হয়ে ফিরেছেন কামুনকাম্বে। ৭০ বলের ইনিংসে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা মেরেছেন তিনি।

ওপেনার চলে গেলেও টিকে থাকলেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা আগের ম্যাচের অভিষিক্ত অলরাউন্ডার ওয়েসলি মাধভেরে। তার ৫২ রানের ইনিংসটা জিম্বাবুয়েকে রেখেছে লড়াইয়ে। পরে তাদের দেখানো পথেই হেঁটেছে অতিথিদের লোয়ার অর্ডার। সিকান্দার রাজা ৬৬ রান করেছেন; পাঁচটি চার ও দুই ছক্কায়। টিনোটেন্ডা মুতুম্বামজি ৩৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখেন জিম্বাবুয়ের।

জিম্বাবুইয়ানদের হয়ে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত থ্রিলারে নিয়ে যান দশে নামা ডোনালন্ড ত্রিপিয়ানো। ২৮ বলে ৫৫ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলেছেন তিনি। অজেয় ইনিংসে দুটি চার ও পাঁচটি ছক্কা মেরেছেন ত্রিপিয়ানো। শেষ পর্যন্ত বৃথা গেল তার ইনিংসটা। শেষের নাটকীয়তায় হেরে গেছে তার দল। তবে জিম্বাবুয়ে যেভাবে লড়াই করে গেছে তাতে তাদের পিঠ চাপড়ে দিতেই হবে।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। বড় সংগ্রহের ভিতটা গড়ে দিয়েছেন তামিম। আজ নিজের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসেছেন দেশ সেরা ওপেনার। তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বাদশ সেঞ্চুরি। তামিম থেমেছেন ক্যারিয়ার সেরা ১৫৮ রান করে। রাজসিক এই ইনিংসটা খেলার তিনি সঙ্গ পেয়েছেন মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের কাছ থেকে।

প্রথমজনের এই ম্যাচের একাদশে থাকা নিয়ে জেগেছিল সংশয়। শেষ অবধি ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছেন মুশি। ৫৫ রানের দারুণ ইনিংসে বাংলাদেশের রানের চাকায় দিয়েছেন বাড়তি গতি। ৫০ বলের ইনিংসে ছয়টি চার মেরেছেন মুশি। মাহমুদউল্লাহ ৪১ রানে ফিরেছেন ৫৭ বল খরচ করে। শেষ দিকে মোহাম্মদ মিঠুনের ১৮ বলে বলে ৩২ রানের ক্যামিও ইনিংসে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে নতুন রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ।

ইনিংসের শেষ বলে বাউন্ডারি মেরেই নিজেদের ছাড়িয়ে যায় টাইগাররা। নতুন রেকর্ড গড়ার মূল কাজটা করে দিয়েছেন তামিম। স্বাভাবিকভাবেই সব আলো ছিল তার দিকে। ১৯ মাস পর তামিম পেয়েছেন স্বপ্নের শতক। সেঞ্চুরির জন্য তাকে কখনোই এতটা সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। দুঃসময়কে তিনি জবাব দিয়েছেন দেড় শ ছাড়িয়ে; ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে।

১৩৬ বলের ইনিংসে তামিম চার মেরেছেন কুড়িটি। ছক্কা তিনটি। জিম্বাবুয়ের বোলারদের পক্ষে সবচেয়ে সফল কার্ল মুম্বা ও ডোনাল্ড ত্রিপানো দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট নন টিসুমা ও মাধভেরে। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল তাইজুল ইসলাম নিয়েছেন সর্বোচ্চ তিন উইকেট।

sheikh mujib 2020