advertisement
আপনি দেখছেন

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) দলবদল শুরু হয়েছে আগেই। আজ ছিল প্রক্রিয়ার শেষ দিন। যা রীতিমতো চমক জাগিয়েছিল আগেই। প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের দলবদল হয়েছে ঢাকার বাইরে। আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেই আয়োজন ধূসর হয়ে গেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণায়।

mushfiq tamim miraz taijul

সতীর্থ-অধিনায়কের সিদ্ধান্ত ছুঁয়ে যাচ্ছে পুরো ড্রেসিংরুমকে। তাই ঢাকা লিগের দলবদলের সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফিকে নিয়ে কথা বলেছেন অনেকেই।

মুশফিকুর রহিম: মাশরাফি ভাইয়ের বিকল্প কখনোই হবে না। মাঠে এবং মাঠের বাইরে অনেক কিছুই মিস করব। পাশাপাশি এটিও বলব, মাশরাফি ভাই পরিবারের একটি অংশ। শুধু আমাদের জন্য বড় ভাই-ই নন, মাশরাফি ভাই আমাদের একাংশ। অবশ্যই তার নেতৃত্ব মিস করব। দলের সাথে খেলা যেন চালিয়ে যেতে পারেন, উনি যেন সুস্থ থাকেন- এটাই কামনা করছি।

তামিম ইকবাল: তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য যা কিছু করেছেন, বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার, ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশের দর্শক কেউ কোনো দিন ভুলবে না তাকে। সবার মনের মধ্যে থাকবে। ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন। আজ বাংলাদেশ যে অবস্থায় এসেছে, তার পুরো কৃতিত্ব মাশরাফি ভাইর। তিনি আমার জন্য, আমাদের জন্য যা করেছেন, তা ভোলার মতো নয়। আশা করি তিনি আরো কিছুদিন খেলবেন।

মেহেদি হাসান মিরাজ: আমার ওডিআই অভিষেক হয়েছে তার নেতৃত্বে। আমি প্রায় ৩৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছি। ওডিআই ক্রিকেটের সবকুটি ম্যাচই তার অধীনে খেলেছি। অবশ্যই তাকে ড্রেসিং রুমে মিস করব। তার জন্য শুভ কামনা রইল।

তাইজুল ইসলাম: শুধু জাতীয় দল নয়, বাংলাদেশের সব ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজমেন্ট, দর্শক মাশরাফি ভাইকে মিস করবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি তো মিস করবই। তার অধিকায়কত্বের শেষ ম্যাচও আমি একসঙ্গে আছি। অবশ্যই আমি মাশরাফি ভাইকে মিস করব।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ: মাশরাফি ভাই যখন অধিনায়ক ছিলেন, ভাই, বন্ধু বা অধিনায়ক যাই বলেন, আমি পুরো সময়টা খুব উপভোগ করেছি। প্রায় ৬ বছর উনি অধিনায়কত্ব করেছেন। অনেক সাফল্যও পেয়েছেন। উনার পরবর্তী জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি এবং এটায় কোনো সন্দেহ নেই যে উনি বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি।

আল আমিন হোসেন: অধিনায়ক হিসেবে তো বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল। তিনি যতদিন খেলেছেন আমাদের আগলে রেখেছেন। কখনও অভ্যন্তরীণ বা বাইরের নেতিবাচক বিষয়গুলো আমাদের বুঝতেই দেননি, তিনি দারুণভাবে সব সামলেছেন। অধিনায়ক হিসেবে তিনি আরও কিছুদিন আমাদের সাথে থাকলে ভালো হতো। অধিনায়ক হিসেবে কালকেই তার শেষ। আমি দোয়া করব, ভাই যেন খেলোয়াড় হিসেবে হলেও আরও কিছুদিন আমাদের সঙ্গে থাকেন।

লিটন দাস : মাশরাফি ভাইকে মিস তো করবই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেরা অধিনায়ক তিনি। ক্রিকেটারদের যেভাবে সমর্থন করে গেছেন, এটা বলার মতো নয়। বিশেষ করে জুনিয়র ক্রিকেটারদের। আমার যখন অভিষেক হয়, উনার নেতৃত্বে খেলেছি। আমার জন্য সেটি বড় পাওয়া। আমার পাশে থেকেছেন সবসময়। নতুন যারাই আসে দলে, সবাইকে সমর্থন করেন। অধিনায়ক যখন একজন ক্রিকেটারের এত জোর দিয়ে পাশে থাকে, সেটা অনেক বড় ব্যাপার। উনার ভেতর এই ব্যাপারটি অনেক বেশি আছে।

মোহাম্মদ মিঠুন: আমরা সবাই জানি অধিনায়ক হিসেবে তিনি ক্রিকেটারদের কাছে কেমন ছিলেন। বড় ভাই হিসেবে তিনি অসাধারণ। আমরা যে কোনো সমস্যা হলেই তার কাছে যেতাম। তিনি বুদ্ধি দিয়ে হোক, নিজে চেষ্টা করে হোক, সবসময় যে কোনো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। আমি কিছুক্ষণ আগেই শুনেছি, উনি আর অধিনায়কত্ব করছেন না। এটাই শেষ ম্যাচ। অবশ্যই উনাকে অনেক বেশি মিস করব। তারপরও তার সঙ্গে যেখানেই খেলব, অধিনায়ক না থাকলেও সবাই তাকেই নেতা হিসেবে চিন্তা করব।

মুস্তাফিজুর রহমান: জানার পর থেকেই মন খারাপ। ভাইয়ের কোনো ব্যাখ্যা নাই আমার কাছে। আমাকে তিনিই নিয়ে এসেছিলেন দলে। আমার মন এখনও খারাপ।