advertisement
আপনি দেখছেন

পাকিস্তান সফর পর্যন্ত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে চেয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সূত্রের খবরটা ছিল এমনই। এরপরই নতুন অধিনায়ক নির্বাচন করতো বোর্ড। কিন্তু তার আগেই চমকে দিলেন মাশরাফি। আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।

mashrafe bangladesh captain 2020

তার এই নেতৃত্ব ছাড়া নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। গত বিশ্বকাপের পর থেকেই শুরু হয়েছে জল্পনা। চলমান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে তো আলোচনার তুঙ্গে এসেছিল প্রসঙ্গটা। একটা পর্যায়ে চটে যান অধিনায়ক। গণমাধ্যমের সামনে কিছু আযাচিত কথাবার্তা বলেন তিনি।

সেই মাশরাফিই নাকি সরে দাঁড়ানোর ভাবনাটা আজ সকালেই ভেবেছেন। দুপুরে অনুশীলনে মাঠে এসে নিয়েছেন সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত। আজ সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেছেন, ‘সত্যি বলতে আমি এত ভাবাভাবি করিনি। সবাই চাচ্ছে ২০২৩ বিশ্বকাপের জন্য নতুন অধিনায়ক আনার সময় হয়েছে। আমি মনে করি আমারও ভাবা উচিত ছিল। ভাবার চেষ্টা করেও আমি আসলে এত ভাবতে পারিনি।’

মাশরাফি আরো বলেছেন, ‘আজকে সকালে মনে হয়েছে, যথেষ্ঠ হয়েছে। আমি অনেক আগেই বলেছি যে অভিমান বা রাগ করা বা ক্ষোভ দেখানো...(হাসি) আসলে কার ওপর দেখাব? এসব জিনিস থাকে না তা নয়, অনেকের থাকে। আমি সত্যি বলছি, এরকম কিছু না। আমাকে একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। মানা বা না মানা, ভালো-মন্দ সবকিছু নিয়েই তো এগিয়ে আসতে হয়েছে এই পর্যন্ত।’

মাশরাফির বিকল্প হিসেবে দীর্ঘ মেয়াদে অধিনায়ক নির্বাচন করার ইচ্ছে বোর্ডের। সেক্ষেত্রে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে পছন্দ ছিল তাদের। নির্বাসনে থাকা সাকিব আগামী অক্টোবরের আগে ফিরতে পারবেন না। তার মাঠে ফেরার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে আছে চারটি। তাই গুটিয়ে কয়েক ম্যাচের জন্য নতুন অধিনায়ক নির্বাচনের ভাবনা ছিল না বিসিবির।

কিন্তু বিসিবির ভাবনায় জল ঢেলে দিলেন অধিনায়ক। মাঠে এসেই বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে নিজের সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দেন মাশরাফি। তাই আপাতত হলেও পাকিস্তান ম্যাচ এবং আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নির্বাচন করতে হচ্ছে বোর্ডকে।

প্রায় দুই দশকের এই ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন মাশরাফি। ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে কোনো ভাবনা নেই তার। তবে মাশরাফি খুশি এ পর্যন্ত আসতে পেরে, ‘আমার ক্যারিয়ারটাই তো অনেক আগে শেষ হয়ে যেতে পারত। যতটুকু পেয়েছি আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া।’

মাশরাফি আরো বলেছেন, ‘প্রাপ্তির বিষয়ে একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে বলা খুব কঠিন। অপ্রাপ্তিটা খুব সহজেই বলতে পারা যায়। অনেক অপ্রাপ্তি আছে, কিন্তু সেটাও দিন শেষে আমার কাছে প্রাপ্তি। কারণ একই প্রবাহে কখনোই জীবন চলে না। ভালো-খারাপের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। আমার ক্ষেত্রেও ওটাই হয়েছে। সত্যি বলতে বলবো যে আমি এই দায়িত্বটাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে পালনের চেষ্টা করেছি। এখন প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি তো আসলে আপনারা-সমর্থকরা ভালো জানেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা খোঁজার চেষ্টা করিনি কখনও।’