advertisement
আপনি দেখছেন

তিন ম্যাচের সিরিজ আগেই নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দল। জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে প্রথম দুই ম্যাচে। ক্রিকেটীয় ভাষায় আজকের ম্যাচটা শুধুই নিয়মরক্ষার কিংবা আনুষ্ঠানিকতার। তবু ম্যাচটা জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে দুই দল। জিম্বাবুয়ে মান বাঁচাতে হার ঠেকাতে চাইবে। বাংলাদেশ চাইবে স্কোর লাইন ৩-০ করতে।

mashrafe mortaza 2020

এই ম্যাচটা শুধু জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার জন্য নয়, দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে বিদায়ী অর্ঘ্য দেওয়ার জন্যও। এই ম্যাচ দিয়েই যে শেষ হচ্ছে টাইগারদের আরেকটা অধ্যায়। আজ দুপুর দুইটায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচ।

গতকাল তৃতীয় ওয়ানডে পূর্বক সংবাদ সম্মেলনে হঠাৎই নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান মাশরাফি। তার এই সরে দাঁড়ানো নিয়ে নাটক কম হয়নি। গত বছর বিশ্বকাপ শেষে যে জল্পনা শুরু হয়েছিল কালই সেটার অবসান ঘটেছে। অধিনায়কের বিদায়টা চিরস্মরণীয় করে রাখতে তাই আদাজল খেয়ে নামবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

অধিনায়ক মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচ সেটা নির্ধারণ হয়েছে বৃহস্পতিবার। তার আগে থেকেই এই ম্যাচটা আলাদা গুরুত্ব বহন করছিল আরো একটা কারণে। এই ম্যাচ দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র ওয়ানডের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল। কথায় এবং কাজে এখনো ঠিক আছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। তাই সবকিছু ঠিক থাকলে আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিশ্রামে পাঠানো হচ্ছে মুশফিকুর রহিমকে।

একাদশে ফিরতে পারেন সদ্য বিবাহিত সৌম্য সরকার। মুশফিক না থাকায় আজ অভিষেক হয়ে যেতে পারে মোহাম্মদ নাঈম শেখের। একাদশে প্রথমবারের মতো ঢুকে যেতে পারেন আরেক তরুণ আফিফ হোসেনও। দুজনেরই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টিতে জার্সিতে অভিষেক হয়েছে। একাদশে ফিরতে পারেন মোহাম্মদ সাইফুদিন। চোট শঙ্কা এড়াতে দ্বিতীয় ম্যাচে ইনজুরিতে ছিলেন তিনি।

আজ অবশ্য পূর্ণশক্তির একাদশই চাচ্ছেন মাশরাফি। প্রায় ১৯ বছর আগে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই বর্ণিল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মাশরাফি। সেদিন বল হাতে আগুন ঝরালেও বুলাওয়েতে ম্যাচটা হেরেছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক তার শেষ ম্যাচে ফলটা নিশ্চিতভাবেই পাল্টাতে চাইবেন।

প্রথম দুটি ম্যাচেই দলীয় সংগ্রহ দুশো ছাড়িয়েছে টাইগাররা। সবশেষ ম্যাচটা থ্রিলার উপহার দিয়েছিল। বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ৩২২ রানের জবাব দিতে নেমে ৩১৮ রান পর্যন্ত তুলে ফেলেছিল সফরকারী। শেষ দুই বলে ছয় রানের সমীকরণটা মেলাতে পারলে হয়তো সেদিনই সমতায় ফিরতে পারতো জিম্বাবুয়ে। সেটা হয়নি। তবে ওই ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য একটা ভবিষ্যতের শিক্ষা হয়ে গেছে।

সম্ভাব্য একাদশ:

বাংলাদেশ: তামিম ইকবাল, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), নাজমুল হোসেন শান্ত/মোহাম্মদ নাঈম শেখ, আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা, তাইজুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।

জিম্বাবুয়ে: তিনাসে কামুনহুকাম্বে, রেজিস চাকাবা, ব্রেন্ডন টেলর (উইকেটরক্ষক), শেন উইলিয়ামস, ওয়েসলি মাধভেরে, সিকান্দার রাজা, টিনোটেন্ডা মুতুম্বজি, রিচমন্ড মুতুম্বামি, ডোনালান্ড তিরিপিয়ানো, চার্লটন টিসুমা, কার্ল মুম্বা

রেকর্ড ও পরিসংখ্যান:

আজ বাংলাদেশ জিতলে অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে জয়ের হাফসেঞ্চুরি হবে মাশরাফি বিন মর্তুজার।

চারজনের হাফসেঞ্চুরির পরও দ্বিতীয়বারের মতো হারের স্বাদ পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে তাদের এমন হারটি ছিল ১৯৯২ সালে; নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

১৭তম জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটার হিসেবে আজ শততম ওয়ানডে খেলতে নামবেন সিকান্দার রাজা। বর্তমান দলে থাকা আরো তিন ক্রিকেটারের এই মাইলফলক ছোঁয়ার নজির আছে। তারা হলেন ব্রেন্ডন টেলর (১৯৫), শেন উইলিয়ামস (১৩২) ও চামু চিভাবা।