advertisement
আপনি দেখছেন

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা তৃতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে দলীয় সংগ্রহ তিন শ ছাড়াল বাংলাদেশ। তবে আজ তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের রানপাহাড়ের প্রেক্ষাপটটা একটু আলাদা। এদিন যে ৪৩ ওভারে তিন উইকেটে ৩২২ রান করেছে টাইগাররা! তাতেই স্বাগতিকরা ছুঁয়ে ফেলেছে আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। দুই ওপেনার লিটন দাস ও তামিম ইকবালের তাণ্ডবের ম্যাচের দৈর্ঘ্যটা কমিয়ে দিয়েছে বৃষ্টি!

tamim liton 2020

ভাগ্য সবসময় সাহসীদের পাশে থাকে। লিটনের আজকের ইনিংসটা অন্তত সেই সাক্ষ্য দিচ্ছে। এদিন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চারবার জীবন পেয়েছেন ডানহাতি বিধ্বংসী ওপেনার। সবকটাই আবার সেঞ্চুরির পর। ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেছেন প্রতিবারই।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে সিরিজের দ্বিতীয় শতকের দেখা পেয়েছেন তামিমও। শেষ দিকে দুজন একে অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঝড় তুলেছেন। রান তোলার এই দুর্দান্ত প্রতিযোগিতায় লাভ হয়েছে বাংলাদেশের। দুই বিস্ফোরক শতকের ওপর দাঁড়িয়ে রানের পাহাড় গড়েছে টাইগাররা।

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার দলপতি হিসেবে আজ ছিল শেষ ম্যাচ। শেষবার টস করতে নেমে ভাগ্য অনুকূলে পাননি তিনি। মুদ্রা নিক্ষেপের লড়াইয়ে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় জিম্বাবুয়ে। তাদের সিদ্ধান্তটা যে ভুল ছিল সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন টাইগারদের দুই ওপেনার লিটন ও তামিম।

দুজনের ঝড় সাময়িক সময়ের জন্য থামিয়ে দিয়েছিল বৃষ্টি। ইনিংসের ৩৩.২ ওভার চলাকালীন বৃষ্টি নামে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ম্যাচ বন্ধ থাকে ১৫৯ মিনিট। ম্যাচের স্থায়িত্ব কমে আসে ৪৩ ওভারে। বিরতির পর বল গড়ায় মাঠে; শুরু হয় টর্নেডো। লিটন-তামিম দুজন মিলে কচুকাটা করতে থাকেন জিম্বাবুয়ে বোলারদের।

শেষ পর্যন্ত জুটিটা তিন শ ছুঁতে পারেনি। বিচ্ছিন্ন হয় ২৯২ রানে। যা ওয়ানডতে বাংলাদেশের যে কোনো জুটিতে সর্বোচ্চ। এই জুটি গড়ার পথে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন লিটন। কিন্তু ছক্কার নেশাটাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য। পঞ্চমবার ক্যাচ তুলে বিদায় নেন তিনি। মুম্বার বলে সিকান্দার রাজার তালুবন্দী হন ডানহাতি ওপেনার।

১৭৬ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে থেমেছেন লিটন। ১৪৩ বলের ইনিংসে ১৬টি চার ও আটটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন লিটন। সবকটি ছক্কাই লিটন মেরেছেন তিন অংক ছোঁয়ার পর! তার সঙ্গী শেষ অবধি টিকে থাকলেন ১২৮ রানে। ১০৯ বলের ইনিংসে তামিম মেরেছেন ছয়টি ছক্কা ও সাতটি চার।

লিটন আউটের পর যে দুজন ব্যাটিংয়ে নেমেছেন দুজনই আউট হয়েছেন শেষ ওভারে। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তিন এবং অভিষিক্ত আফিফ হোসেন সাত রানে সাজঘরে ফেরেন। অভিষেক হওয়া আরেক তরুণ মোহাম্মদ নাঈম শেখ তো ব্যাট ধরারই সুযোগ পাননি। আসলে লিটন-তামিমের ব্যাট যেভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে তাতে অনেকটাই আড়ালে চলে গেছেন দুই তরুণের শুরুর পথচলা।

sheikh mujib 2020