advertisement
আপনি দেখছেন

যেন বোঝার ওপর শাকের আঁটি। বৃষ্টিভেজা ম্যাচে ৪৩ ওভারে বাংলাদেশ তিন উইকেটে করেছে ৩২২ রান। কিন্তু অভিশপ্ত বৃষ্টি জিম্বাবুয়ের কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে বাড়তি কুড়ি রানের বোঝা! স্বাভাবিকভাবেই তিন শোর্ধ্ব রানপাহাড়ের চাপটা নিতে পারেনি সফরকারীরা। ম্যাচের ৩৩ বল বাকি থাকতেই ২১৮ রানে গুটিয়ে গেছে জিম্বাবুইয়ানরা।

bd zim 2020

আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচ টাইগাররা জিতেছে বৃষ্টি আইনে; ১২৩ রানের বড় ব্যবধানে। দুর্দান্ত এই জয়ের নায়ক পৌনে দুশো ছাড়ানো লিটন দাস। পার্শ্বনায়ক আরেক সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল। আজ দুই ওপেনারের তাণ্ডব অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে দিয়েছে বিদায়ী অর্ঘ্য।

তামিম-লিটনের বিস্ফোরণ অনেকটাই আড়াল করে দিয়েছে মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও আফিফ হোসেন ধ্রুবর ওয়ানডে অভিষেকটা। দুজনের মঞ্চে আলো ছড়িয়েছেন লিটন-তামিম। তাদের ২৯২ রানের রেকর্ড জুটির ওপর দাঁড়িয়ে সিরিজে টানা তৃতীয়বারের মতো তিন শ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ।

লিটন-তামিমের ঝড়টা থামিয়ে দিয়েছিল বৃষ্টি। ম্যাচের বয়স তখন ৩৩.২ ওভার; বাংলাদেশের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ১৮২ রান। এরপরই কেঁদে ওঠে সিলেটের আকাশ। অধিনায়কের বিদায়টা যেন আকাশের কাছে আর্তনাতের মতোই। ঝড়েছে অঝোর বৃষ্টি। বল আর মাঠে গড়াবে কিনা এমন সংশয়ও তো উঁকি দিচ্ছিল!

ম্যাচটা স্থগিত থাকল ১৫৯ মিনিট। শুরু হলো খেলা। বৃষ্টির আগে যে ঝড় শুরু হয়েছিল বিরতির পর তা রূপ নিল টর্নোডোতে। যে লিটন সেঞ্চুরির আগে একটি ওভার বাউন্ডারি মারতে পারেননি, সেই তিনিই পরে মারলেন আটটি ছক্কা! তার সঙ্গী তামিমের ছক্কা ছ’টি। লিটনের যেখানে চার ১৬টি সেখানে তামিমের সাতটি।

একটা পর্যায়ে দুশোর সম্ভাবনা জেগেছিল লিটনের ব্যাটে। কিন্তু আশা জাগিয়েও পারলেন না এই ওপেনার। পঞ্চম ম্যাচ তুলে দিয়ে ডাবল সেঞ্চুরির অপমৃত্যু ঘটালেন তিনি। লিটন আউট হলেন ১৭৬ রানে; এই ইনিংসে তিনি ভাঙলেন এক ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক তামিম ইকবালের ১৫৮ রানের রেকর্ড।

দুদিন আগেই নিজের রেকর্ডটা ভেঙে নতুন করে গড়েছিলেন তিনি। নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে দাঁড়িয়ে তিনি দেখেছেন সতীর্থের তাণ্ডব। তামিম শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলেন ১২৮ রানে। ম্যাচ শেষে তার কাঁধে চড়েই মাঠ ছেড়েছেন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি। অধিনায়ক ভূমিকায় এটা তার ওয়ানডেতে ৫০তম জয়।

অধিনায়ক যে মাইলফলক ছুঁতে চলেছেন সেটা বোঝা গেছে ম্যাচের প্রথম ভাগেই। ৪৩ ওভারে কোনো দল যখন ৩২২ রান তুলে ফেলে তখন আসলে ম্যাচটার রোমাঞ্চ বলতে কিছু বাকি থাকে না। তবু অপেক্ষা বিশেষ কিছুর। অধিনায়কের বিদায়ী ম্যাচ বলেই কিনা ঝড়-বৃষ্টি বাধা উপেক্ষা করেও গ্যালারিতে থাকলেন হাজার দুয়েকেরও বেশি সমর্থক!

যদিও স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। ছুটির দিন শুক্রবার এবং দলপতি হিসেবে মাশরাফির শেষ টস বলেই কিনা গ্যালারিতে তিল ধারনের ঠাঁই ছিল না। তাদের হতাশ করেননি টাইগাররা। দুই ওপেনার যে ঝড় শুরু করেছিল ব্যাট হাতে; সেটার ইতি টেনেছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বল হাতে চার উইকেট নিয়ে। একটি উইকেট নিয়েছেন মাশরাফিও। মুস্তাফিজুর রহমান, অভিষিক্ত আফিফ হোসেনেরও তাই। তবে তাইজুল ইসলামের শিকার দুটি।

বোঝাই যাচ্ছে অধিনায়ক বিদায়ী উপহার দিতে বোলাররা সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করেছেন। ম্যাচ শেষে সবাই হয়ে গেলেন মাশরাফি! প্রিয় নেতাকে সংবর্ধ্বনা জানাতে দলের সবাই মাশরাফির জার্সি পড়েছেন। পেছন থেকে আসলে আসল মাশরাফিকে খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর ছিল। সামনে দেখে চেনা যাচ্ছিল সবাইকে। তাদের জার্সির বুকে লেখা ‘থ্যাংক ইউ ক্যাপটেন’।

সাইফুদ্দিনদের তোপের মুখে কখনোই হুমকি হয়ে উঠতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। তবে সাধ্যমতো হার ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন তারা। তবে জয়ের পথটা দেখিয়ে দিয়ে গেছেন মাশরাফি; প্রতিপক্ষ শিবিরে প্রথম আঘাতটা তারই। এরপর যতটা সম্ভব প্রতিরোধ গড়ে হারের ব্যবধান কমিয়ে আনতে লড়াই করেছে জিম্বাবুইয়ানরা।

যথারীতি এই ম্যাচেও রান করেছেন সিরিজে অভিষিক্ত ওয়েসলি মাধভেরে। ৪২ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। সিকান্দার রাজা সর্বোচ্চ ৬১ রানে আউট হন। এ ছাড়া ওপেনার রেজিস চাকাভা করেছেন ৩৪ রান। কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা করেও বিশাল হার এড়াতে পারেননি তারা। বাংলাদেশের কাছে আরো একবার হোয়াইটওয়াশ হতে হলো তাদের। অবধারিতভাবেই সিরিজ সেরা হয়েছেন লিটন। আজকের ম্যাচ সেরার স্বীকৃতিও উঠেছে তার হাতে।

sheikh mujib 2020