advertisement
আপনি দেখছেন

যত গর্জে তত বর্ষে না। বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া দুই শ রানের জবাব দিতে নেমে জিম্বাবুয়ে যেভাবে শুরু করেছিল সেটা ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর কিছু করতে পারেনি জিম্বাবুইয়ানরা। দারুণ একটা লড়াইয়ের আভাস দিয়েও নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছে তারা।

soummay and riyad

আজ মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়েকে ১৫২ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচে এক ওভার বাকি থাকতেই প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টাইগাররা জিতেছে ৪৮ রানে। এই জয়ের ফলে সিরিজে এগিয়ে গেল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। আগামী বুধবার একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় তথা শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

ইনিংস শুরুর দুই বলে দুই চার হজম করেন ‍মুস্তাফিজুর রহমান। এর পরই নিজেকে সামলে নেন ‘কাটার মাস্টার’। পরের ওভারে এসে ব্রেন্ডন টেলরকে তুলে নেন শফিউল ইসলাম; কমে যায় জিম্বাবুয়ের রানের গতি। ৩০ রানের মধ্যে ফের ধাক্কা। ক্রেইগ আরভিনকে এলবির ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজ। খনেকবাদেই রান আউট ওয়েসলি মাধভেরে।

৩৭ রানে তিন উইকেট হারানো জিম্বাবুয়েকে চোখ রাঙাচ্ছিল পরাজয়। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াইয়ের আভাস দেন ওপেনার তিনাসে কামুনহুকাম্বে; ঝড় ওঠে তার ব্যাটে। তবে ঝড় থামান আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। তাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন কামুনহুকাম্বে।

২০ বলে দলীয় সর্বোচ্চ ২৮ রানে সাজঘরে ফেরেন জিম্বাবুইয়ান ওপেনার। তাতেই প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় সফরকারীদের হার। ৮৩ রানের মধ্যে তাদের ছয় উইকেট নিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সাজঘরে ফিরে যান অধিনায়ক শেন উইলিয়ামস (১২ বলে ২০), সিকান্দার রাজা (১৪ বলে ১০) ও রিচমন্ড মুতুম্বামি (১৩ বলে ২০)।

হারের ‍মুখে দাঁড়িয়ে ডোনাল্ড টিরিপানো বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। ১৩ বলে তিন ছক্কায় কুড়ি রান করেন তিনি। শেষ দিকে ১৬ বলে ২৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন কার্ল মুম্বা। যা জিম্বাবুয়ের হারের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র; বিলম্বিত হয়েছে বাংলাদেশের জয়। জয়ের অপেক্ষা শেষ করেন মুস্তাফিজ।

জিম্বাবুয়েকে দ্রুত গুটিয়ে দিতে মূখ্য অবদান মুস্তাফিজের একার নয়। তার সমান তিন উইকেট নিয়েছেন বিপ্লবও। ৩৪ রান দিলেও তিন উইকেট নিয়েছেন এই স্পিনার। চার ওভারে ৩২ রান দিয়েছেন মুস্তাফিজ। এ ছাড়া শফিউল ইসলাম, সাইফুদ্দিন ও আফিফ হোসেন ধ্রুব একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে রানের পাহাড় গড়েন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। সিলেটের পারফরম্যান্স তারা ঢাকাতেও বয়ে আনলেন। রানের স্রোত বইয়ে দিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। পরে সৌম্য সরকারের তাণ্ডবে নির্ধারিত ‍কুড়ি ওভারে তিন উইকেটে ২০০ রান করে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে এ নিয়ে তৃতীয়বার দু শ’র গণ্ডি ছুঁলো টাইগাররা।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বড় স্কোরের ভিতটা গড়ে দিয়েছে টপ অর্ডারের দারুণ ব্যাটিং দৃঢ়তা। তামিম ও লিটনের ঝড়ে শুরুর দশ ওভারে বিনা উইকেটে ৯০ ছাড়ায় বাংলাদেশ। শেষ অবধি উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছে ৯২ রানে। টি-টোয়েন্টিতে টাইগারদের সর্বোচ্চ জুটি এখন এটাই।

তামিম-লিটন ভেঙেছেন নিজেদেরই পুরনো রেকর্ড। হাফসেঞ্চুরির পথে ছিলেন দুজনই। কিন্তু তামিম আউট হয়ে যান ৩৩ বলে ৪১ রান করে। ইনিংসে তিনটি চারের সঙ্গে মেরেছেন দুটি ছক্কা। পাঁচটি চার ও তিন ছক্কা ছিল লিটনের ইনিংসে। ৩৯ বলে ৫৯ রানে আউট হন ডানহাতি বিধ্বংসী ওপেনার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটা লিটনের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি।

পরে তাকে ছাড়িয়ে গেছেন সৌম্য সরকার। শেষ ওভারে ক্রিস এম্পুফুর তিনটি ছক্কা মেরেছেন তিনি। সবমিলিয়ে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে তার ছক্কা পাঁচটি। ইনিংসে বাংলাদেশের ছক্কা ১২টি। ৩২ বলে ৬২ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে অপরাজিত থাকেন সৌম্য। টি-টোয়েন্টিতে এ নিয়ে দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি হলো তার। সৌম্যর আগের সর্বোচ্চ ছিল ৫১ রান।

তার সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নয় বলে ১৪ রানে অজেয় থাকেন। মুশফিকুর রহিম আট বলে দুই ছক্কায় ১৭ রান করেছেন। সবমিলিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল ঘরে তুলেছে বাংলাদেশ। তিনজনকে অভিষেক করিয়েও ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পারলো না জিম্বাবুয়ে।