advertisement
আপনি দেখছেন

তিন সংস্করণে আগের পাঁচটি ম্যাচে জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। আজ পূর্ণাঙ্গ সিরিজের শেষ ম্যাচে পাল্টে গেল দৃশ্যপট। ব্যাটসম্যানরা নন, বোলাররা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন লড়াইয়ের প্রথম ভাগেই। পরে ব্যাটসম্যানরা অনায়েসেই জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারলেন।

bangladesh celebrate a wicket 2020

আজ মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় তথা শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১২০ রানের লক্ষ্যে স্বাগতিকরা পৌঁছেছে ৯ উইকেট ও ২৫ বল হাতে রেখেই। কুড়ি ওভারের প্রথম ম্যাচটা টাইগাররা জিতেছিল ৪৮ রানের বড় ব্যবধানে। দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতল স্বাগতিক শিবির। শূন্যহাতে ফিরতে হচ্ছে জিম্বাবুয়েকে।

দাপুটে এই জয়ে দারুণ একটা ইতিহাস হয়ে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ সিরিজের সবকটি ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়ল টাইগাররা। জিম্বাবুয়েকে একমাত্র টেস্টে সিরিজে ইনিংস ও ১০৬ রানের ব্যবধানে হারিয়ে যে জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ রাতে তা শেষ হলো।

এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজে জয়ের পর ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। সিলেটের পর ঢাকায় ফিরে আরেকটি সংস্করণে টাইগারদের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমার্পণ করল জিম্বাবুয়ে। এবারের বাংলাদেশ সফরে একটি ম্যাচেই কিছুটা যা লড়াই করেছিল তারা। তবে রূপকথার আভাস দিয়েও দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটা জিততে পারেনি সফরকারীরা।

পুরো সফরে প্রতিবারই আগে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। তা সংস্করণ যেটাই হোক। টাইগাররা আগে ব্যাট হাতে নেবে এটা যে সিরিজের নিয়ম হয়ে উঠেছিল। আজ অবশ্য ধারাটায় পরিবর্তন এসেছে। সফরে প্রথমবার আগে ব্যাটিং করেছে জিম্বাবুয়ে। যদিও এদিন টস জিতেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ব্যাট হাতে উড়ন্ত সূচনা করেও ছন্দটা ইনিংসের শেষ অবধি নিয়ে যেতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ১১ ওভারে এক উইকেটে ৬৯ রান করা দলটা শতরান পেরিয়েছে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। শেষ অবধি নির্ধারিত কুড়ি ওভারে সাত উইকেটে ১১৯ রান তুলতে সক্ষম হয় সফরকারীরা। মামুলি এক শ কুড়ি রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে হেসেখেলেই।

নিষ্প্রাণ ম্যাচে জয়ের কাজটা সহজ করে দিয়েছে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। আগুনে ফর্মে থাকা লিটন দাস আজ করেছেন হাফসেঞ্চুরি। তার আজকের অর্ধশতকটা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবমিলিয়ে ওপেনারদের ২০০ তম অর্ধশতক। এর আগে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে লিটনের সেঞ্চুরিটা ছিল জেতা আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের ৫০তম শতক!

সেদিন লিটন আউট হয়েছেন। আজ অজেয় থাকলেন ৬০ রানে। ৪৫ বলের ইনিংসে তিনি বাউন্ডারি মেরেছেন আটটি। উদ্বোধনী জুটিতে তার সঙ্গী মোহাম্মদ নাঈম ৩৩ রানে আউট হয়েছেন। ফেরার আগে ৩৪ বলের মধ্যে পাঁচটি চার হাঁকিয়েছেন এই তরুণ ওপেনার। ১৬ বলে দুটি ছক্কায় কুড়ি রানে অপরাজিত থাকেন আগের ম্যাচের নায়ক সৌম্য সরকার।

আজ দ্বিতীয় ম্যাচে তিন পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। বিশ্রামে পাঠানো হয় দেশসেরা ওপেনার ও টাইগাদের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালকে। তার জায়গায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছে হাসান মাহমুদের। বাংলাদেশের জার্সিতে প্রথমবার বল করতে নেমে তিনি অবশ্য খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি।

চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন মাহমুদ। একই বোলিং ফিগার মুস্তাফিজুর রহমানেরও। তবে ‘কাটার মাস্টারে’র নামের পাশে দুটি শিকার রয়েছে। আল-আমিন হোসেন আরো দুর্দান্ত বোলিং করলেন; চার ওভারে ২২ রান খরচায় নিয়েছেন দুটি উইকেট। এ ছাড়া মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মেহেদি হাসান ও আফিফ হোসেন একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

জিম্বাবুয়ে দলীয় সংগ্রহ এক শ ছাড়িয়েছে ব্রেন্ডন টেলরের ব্যাটের ওপর দাঁড়িয়ে। সফরজুড়ে ব্যর্থ থাকা টেলর আজ ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেছেন। বাংলাদেশ সফরে আগের পাঁচ ম্যাচ মিলে ৪৪ রান করা টেলর আজ অজেয় ছিলেন ৫৮ রানে। ৪৮ বলের ইনিংসে ছয়টি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মেরেছেন জিম্বাবুইয়ান ওপেনার।

দ্বিতীয় দলীয় সর্বোচ্চ ৩৩ বলে ২৯ রান এসেছে ক্রেইগ আরভিনের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া সিকান্দার রাজা ১২ এবং তিনাসে কামুনহুকাম্বে ১০ রানে আউট হয়েছেন। 

এই ম্যাচটাতেও গ্যালারি পূর্ণ ছিল না। করোনাভাইরাস আতঙ্কে ম্যাচের টিকিট কমিয়ে আনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবু গ্যালারি ফাঁকা ছিল না একেবারে। কালোবাজারিদের কাছ থেকে চড়া দামে টিকিট কিনে ঠিকই মাঠে ঢুকেছেন দর্শকরা। স্টেডিয়ামের গ্যালারিও প্রায় অর্ধেক ভরে উঠেছিল।