advertisement
আপনি দেখছেন

ক্যারিয়ার শেষে তার যত অর্জন, তা দেখে নড়ে-চড়ে বসতে বাধ্য সবাই। তবে এসব এমনি এমনি আসেনি। আর দশটা ক্রিকেটারের মতো এতোটা সহজ ছিলোনা ইরাপাল্লির ক্রিকেটে আসার গল্পটা। অনেক কাঠ-খড় পুড়াতে হয়েছে তাকে। অসংখ্য বাঁধা ছিল ক্রিকেটার হওয়ার পথে। তবে সবকিছুকে পায়ে ঠেলে ঠিকই কিংবদন্তিদের কাতারে নাম লিখিয়েছেন সাবেক এই অফস্পিনার।

erapalli india১৯৬২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার ছিল ইরাপাল্লি প্রসন্নের

বাবা চেয়েছিলেন নামকরা ইঞ্জিনিয়ার হবে ছেলে। নিজের সু-নিশ্চিত ক্যারিয়ার গড়বে। সাথে পরিবারের মুখও করবে উজ্জল। কিন্তু ক্রিকেটে যার ধ্যান-জ্ঞান তাকে কি আর আটকানো যায়। যায়নি ইরাপাল্লিকেও। কখনো লুকিয়ে, কখনো বাবাকে বুঝিয়ে ক্রিকেটে হাজিরা দিয়েছেন। তাই হয়তো দিনশেষে অর্জনটাও এসেছে মুঠোভরে।

ক্যারিয়ারে খেলেছেন মোট ৪৯টি টেস্ট। ঝুলিতে পুরেছেন ১৮৯টি উউকেট। ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন ১০ বার। আর ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন ২ বার। এক ইনিংসে ৭৬ রানে ৮ উইকেট তার সর্বোচ্চ। আর ১৪০ রানের বিনিময়ে ১১ উইকেট তার ম্যাচসেরা বোলিং ফিগার।

দ্রুততম ভারতীয় হিসেবে ইরাপাল্লি ছুঁয়েছেন ১০০ উইকেটের মাইলফলক। তার জন্য লেগেছিল ২০ ম্যাচ। যদিও রবিচন্দন অশ্বিন পরবর্তিতে এ রেকর্ড নিজের করে নেয়।

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্ধর্ষ বোলিংই  ইরাপাল্লিকে অন্য বোলারদের থেকে আলাদা করেছে। এই দুই দলের ব্যাটসম্যানদের জন্য ইরা ছিলেন রীতিমতো বিষফোঁড়া। তার বোলিংয়ের সামনে যেন দাঁড়াতেই পারতো না তাসমান পাড়ের ক্রিকেটাররা। আর তাদের পেলে উইকেটের ক্ষুধাটাও বেড়ে যেতো এই ভারতীয়র। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নেয়া ১৬ ম্যাচে ৯৫ উইকেটই তা প্রমাণ করে।

erapalli oneইরাপাল্লি প্রসন্ন এখন

নিজের ১৬ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কোন ওয়ানডে খেলার সুযোগ হয়নি ইরাপাল্লির। ১৯৬২ সালের ১০ জানুয়ারি মাদ্রাজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয়েছিল এই স্পিনারের। আর লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন ১৯৭৮ সালে ২৭ অক্টোবর।

খেলা ছাড়ার পর তিনি ভারত জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন ভারত  জাতীয় একাডেমীর বোলিং কোচ। আর সর্বশেষ চেন্নাই এমএসি স্পিন ফাউন্ডেশনের বোলিং কোচ হিসেবেও কর্মরত ছিলেন ৮০ বছর বয়সী সাবেক এই স্পিনার।

ইরাপাল্লি ১৯৭০ সালে "পদ্মশ্রী" এ্যাওয়ার্ড পান। এছাড়াও ক্যাস্ট্রল আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন। ১৯৪০ সালের  ২২ মে  ব্যাঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন এই লিজেন্ড স্পিনার।