advertisement
আপনি দেখছেন

স্নায়ুচাপের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়েছে ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল। দম বন্ধ করা লর্ডসের ফাইনাল উপহার দিয়েছে ইতিহাসের সেরা লড়াই। দর্শক, ক্রিকেটার, ম্যাচকর্তা- রোমাঞ্চ কাকে ছুঁয়ে যায়নি। মহানাটকীয় ফাইনাল গড়ায় সুপার ওভারে। আশ্চর্যজনকভাবে সেখানেও অবিশ্বাস্য সমতা! এমন ফাইনাল আগে দেখেনি বিশ্ব।

ben stokes england 2019

শেষ পর্যন্ত বেশি বাউন্ডারি মারার অদ্ভুত নিয়মে ইংল্যান্ডকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। রানার্সআপ হয় নিউজিল্যান্ড। সেই দুঃখ এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে কিউইদের। কীভাবে বিশ্বকাপ এসেছে সেটা ইংলিশরাও কোনোদিন ভুলতে পারবে না। প্রায় এককভাবে দলেকে টেনেছেন বেন স্টোকস। তার ৯৮ বলে ৮৪ রানের ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে হার এড়ায় ইংল্যান্ড।

আপ্রাণ চেষ্টা করেও নির্ধারিত ৫০ ওভারে দলকে জেতাতে পারেননি ইংলিশ অলরাউন্ডার। ক্লান্ত স্টোকসকেই আবার নিতে হলো সুপার ওভার চ্যালেঞ্জ। তবে এক ওভারের থ্রিলার লড়াইয়ের আগে চূড়ান্তভাবে স্নায়ুচাপে ভুগছিলেন স্টোকস। সেই চাপের কথা স্টোকস বললেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয় নিয়ে প্রকাশিত বই 'মরগানস ম্যান: দ্য ইনসাইড স্টোরি অব ইংল্যান্ডস রাইজ ফ্রম ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ হিউমিলেশন টু গ্লোরি'তে।

ben stokes plays a shot

চাপমুক্ত হতে সুপার ওভারের আগে সিগারেট টেনেছিলেন স্টোকস। বইয়ের লেখক নিক হোল্ট ও স্টিভ জেমস লিখেছেন, ‘গ্যালারিতে ২৭ হাজার দর্শক ছিল। সুপার ওভারের উন্মাদনায় মেতেছিলেন সবাই। স্টেডিয়ামে কোনো নীরব জায়গা পাওয়া কঠিন ছিল। কারণ দর্শক, টিভি ক্যামেরা সবার চোখ ছিল লংরুম ও ড্রেসিংরুমে। স্টোকস ঠিকই জায়গাটা খুঁজে নিয়েছেন।’

লেখকদ্বয় যোগ করলেন, ‘ইয়ন মরগান যখন ড্রেসিংরুমে সবাইকে অনুপ্রাণিত করতে ব্যস্ত তখন সেখান থেকে বেরিয়ে যান স্টোকস। তার পুরো শরীরে ঘাম আর ধুলা ছিল। চাপ নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ব্যাট করেছেন। সেখান থেকে ফিরে ড্রেসিংরুমের পেছনে চলে গেলেন স্টোকস। অ্যাটেন্ডেটদের অফিস আর গোসলের জায়গা পেরিয়ে এক কোনায় গিয়ে একটি সিগারেট জ্বালিয়ে নিজেকে শান্ত করেন স্টোকস।’

সিগারেটের ধোঁয়া কাজে দিয়েছে। সুপার ওভারে তিন বলে আট রান করেন স্টোকস। বাটলার করেছিলেন সাত। নিউজিল্যান্ডকে ১৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা দেয় ইংলিশরা। যদিও ১৫ রান তুলতে সক্ষমহয় কিউইরা। তাতেই কপাল খুলে যায় স্বাগতিকদের। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় ইংল্যান্ড।

sheikh mujib 2020