advertisement
আপনি দেখছেন

জিতলেই আইপিএলের ফাইনালের টিকিট। ২৪ বলে দরকার ১৩ রান। এমন সহজ সমীকরণটা কিনা কঠিন করে ফেলল কলকাতা নাইট রাইডার্স! অবিশ্বাস্যভাবে তিন ওভারে ছয় রান তুলল দলটি! শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় সাত রানের। এমন অবস্থায় উইকেটে এলেন আগের ম্যাচের পার্শ্ব নায়ক সাকিব আল হাসান। কিন্তু এদিন কিছু করতে পারলেন না বাংলাদেশি অলরাউন্ডার।

kkr win over delhi

আগের ম্যাচে চার মেরে দলকে জেতানো সাকিব এদিন ঠিকঠাক স্কুপটা করতে পারলেন না। বরং দুই বলে শূন্য রানে আউট হয়ে দলকে মহাবিপদে ফেলে সাজঘরে ফেরেন। পরের বলে সুনিল নারাইনকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান রবিচন্দ্রন অশ্বিন। হারের শঙ্কায় পড়ে কলকাতা। দুই বলে ছয় রানের কঠিন সমীকরণ।

প্রায় হারতে বসা ম্যাচটা পঞ্চম বলেই শেষ করে দিলেন রাহুল ত্রিপাঠি; অশ্বিনকে ছক্কা হাঁকান। থ্রিলার জয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল কলকাতা। অথচ ম্যাচটা রাহুলের কারণেই কঠিন হয়ে উঠেছিল। শেষ বলে ছক্কা মারার আগে ১০ বলে করেন মোটে ছয় রান করেছিলেন তিনি। অবশেষে 'পাপমোচন' করেই উইকেট ছাড়লেন রাহুল।

এই হারে ফাইনালে ওঠার দ্বিতীয় সুযোগটাও হাতছাড়া করল দিল্লি ক্যাপিটালস। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচেও চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছিল দলটি। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে দিল্লি অবশ্য সহজ হারের মুখে পড়েছিল। কিন্তু ম্যাচটা হারার আগে হারল না দিল্লি। নিশ্চিত হারতে বসা ম্যাচে নাটকীয় এক প্রত্যাবর্তন করে তারা।

আজ শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে পাঁচ উইকেটে ১৩৫ রান করে দিল্লি ক্যাপিটালস। জবাব দিতে নেমে তিন উইকেট ও এক বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কলকাতা। আগামী শুক্রবার দুবাইতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সাকিবদের প্রতিপক্ষ মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস।

নিজেদের হারিয়ে খুঁজতে থাকা কলকাতা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সাকিব একাদশে ফেরার পর। বাংলাদেশি অলরাউন্ডার একাদশে ফেরার পর চার ম্যাচের সবকটিতেই জিতল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। আগের তিনটি ম্যাচেই দলের জয়ে ভূমিকা রেখেছেন সাকিব। আজ অবশ্য দলের জয়ে তেমন অবদান রাখতে পারেননি তিনি।

বল হাতে উইকেট পাননি সাকিব। চার ওভারে রান দিয়েছেন ২৭। কলকাতার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান তিনিই দিয়েছেন। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটাকে খরুচে বোলিং বলা কঠিন। অবশ্য অন্যদের তুলনায় সাকিবের বোলিং সাদামাটা বলাই শ্রেয়। কলকাতার অন্য বোলাররা ভালোই চাপে রাখে দিল্লি ক্যাপিটালসকে। চারজনই রান দিয়েছেন সাতের নিচে।

বোলারদের এই মিতব্যয়িতার কারণেই 'দিল্লি'কে অল্পতে বেঁধে ফেলতে পেরেছে কলকাতা। অথচ শুরুটা দারুণ ছিল দিল্লির। চার ওভারে বিনা উইকেটে ৩২ রান তুলে ফেলে তারা। এরপরই রানের চাকার গতি কমান কলকাতা বোলাররা। দিল্লির পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ বলে ৩৬ রান করেন ওপেনার শিখর ধাওয়ান। ২৭ বলে ৩০ রানে অজেয় থাকেন শ্রেয়াস আইয়ার।

এ ছাড়া পৃথ্বি শ ১২ বলে ১৮, মার্কাস স্টয়নিস ২৩ বলে ১৮, শিমরন হেটমায়ার ১০ বলে ১৭ রানে আউট হন। বোলারদের কারণে 'ছোট' লক্ষ্যমাত্রা পেয়েছে কলকাতা। সেটাকে প্রায় মামুলি বানিয়ে ফেলেছিলেন দলটির দুই ওপেনার শুভমান গিল ও ভেঙ্কাটেশ আইয়ার। উদ্বোধনী জুটিতে ১২ ওভারে ৯৬ রান করেন তারা।

এরপরই মড়ক লাগে কলকাতার ব্যাটিংয়ে। ৪১ বলে ৫৫ রান করেন ভেঙ্কাটেশ। সঙ্গী হারানোর পর আউট হলেন আরেক ওপেনার শুভমানও। ৪৬ বলে ৪৬ রানে আউট হন তিনি। পরে নিতিশ রানা ১২ বলে ১৩ রান করেন। ১১ বলে ১২ রানে অজেয় থাকেন রাহুল। বিস্ময়কর হচ্ছে ডিনেশ কার্তিক, ইয়ন মরগান, সাকিব, নারাইন ও লোকি ফার্গুসন খুলতে পারেননি রানের খাতা। শেষ জন অবশ্য কোনো বল মোকাবেলা করেননি।