advertisement
আপনি দেখছেন

আশঙ্কাটাই সত্যি হলো। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচে পাকিস্তান জিতল শেষ বলে। টাইগারদের ১২৪ রানে বেঁধে ফেলার পর বাবর আজমের দল থ্রিলার ম্যাচে পাঁচ উইকেটের জয় তুলে নেয়।

pakistan celebrating shahnawaz wickets

অবশ্য ম্যাচে সহজ জয়ের পথেই ছিল পাকিস্তান। শেষ দিকে সফরকারীদের চেপে ধরে বাংলাদেশ। শেষ ওভারে আট রানের সমীকারণ। বল হাতে শুরুতেই চমক দেখালেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রথম বলে ডট। পরের দুই বলে দুই উইকেট। জয় যখন উঁকি দিচ্ছিল তখনই চতুর্থ বলে ছক্কা হজম।

হাল ছাড়লেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। পরের বলেই ইফতিখারকে ইয়াসির আলির ক্যাচে পরিণত করেন। শেষ বলে এক রান দরকার পাকিস্তানের। কিন্তু বাংলাদেশকে হতাশ করেন মোহাম্মদ নওয়াজ। শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে স্বাগতিকদের জয়বঞ্চিত করে পাকিস্তানকে জিতিয়ে দেন তিনি। এই সংস্করণে এনিয়ে টানা আট ম্যাচে হারল টাইগাররা।

mohammad naim sweeps 2021

প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১২৭ রানের পুঁজি নিয়ে ভালোই লড়াই করেছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জয়ের আভাসও দিয়েছিল দল। শেষ পর্যন্ত হারতে হয়েছে। আজ শেষ ম্যাচেও যেন তার পুনরাবৃত্তি হলো। শেষ ওভারে তিন উইকেট নিয়েও আট রানের পুঁজি আগলে রাখতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ।

শেষ পাঁচ ওভারে পাকিস্তানের সমীকরণ দাঁড়ায় ৪২ রানের। ১৬তম ওভারে এসে শহিদুল ইসলাম দিলেন ১৬ রান। বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে তখনই। কিন্তু হারার আগে হারলেন না মাহমুদউল্লাহরা। দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে দারুণভাবেই ম্যাচে ফিরে আসেন। এরপর শেষ ওভারের ওই থ্রিলার।

পাকিস্তানের জয়ের ভিত গড়ে দেন হায়দার আলি ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। রান তাড়ার শুরুতে বাবর আজম ২৫ বলে ১৯ রানে ফিরে গেলেও অতিথিদের জয়ের পথে এগিয়ে নেন এই যুগল। দ্বিতীয় উইকেটে হায়দারকে ৬১ রানের কার্যকর জুটি গড়েন রিজওয়ান। তাদের বিচ্ছিন্ন করেন শহিদুল।

৪৩ বলে ৪০ রানে আউট হন রিজওয়ান। পাকিস্তানকে কক্ষপথে রেখে সাজঘরে ফিরে আসেন হায়দার। ৩৮ বলে তিন চার ও দুই ছক্কায় ৪৫ রান করেন তিনি। এরপর সরফরাজ আজমেদ ১২ বলে ছয় রান করেন। এ ছাড়া ইফতিখার দুই বলে ছয় এবং নেওয়াজ এক বলে চার রান করেন।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে এদিনও যথারীতি বাজে শুরু হলো বাংলাদেশের। টপ অর্ডারে ওলট-পালট করেও লাভ হয়নি। পাঁচ বলে পাঁচ রান করে বিদায় নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে রানে ফিরেছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন বাঁ-হাতি ওপেনার।

নাইমের শুরুটা ছিল ধীরগতির। এরপর ঝড় ওঠে তার ব্যাটে। সেই ঝড় থেমে গেছে অল্পতেই। ৫০ বলে দুটি করে চার-ছক্কা মেরে আউট হন নাঈম। তার আগেই ২৩ বলে ২২ রান করে আউট হন তিনে নামা শামীম হোসেন। ২১ বলে ২০ রানে ফেরেন আফিফ হোসেন। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ১৩ রান করতে খরচ করলেন ১৪ বল।

বাংলাদেশকে অল্পতে আটকাতে মূল ভূমিকা পাকিস্তানি বোলার মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রের। চার ওভারে ১৫ রান খরচায় দুই উইকেট নিয়েছেন তিনি। উসমান কাদির দুই উইকেট নিলেও রান দিয়েছেন ৩৫। এ ছাড়া শাহনেওয়াজ ধানি ও হ্যারিস রউফের শিকার একটি করে।