advertisement
আপনি পড়ছেন

ম্যাচ শেষ হতেই ইভান রাকিতিচ বললেন, 'আমি সত্যি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না।' আপনি বিশ্বাস করতে পারছনে তো! রাত জেগে যারা খেলা দেখেননি, কাক ডাকা ভোরে চোখ কচলাতে কচলাতে ম্যাচের খবর জানতেই হয়তো আতকে উঠছেন, এও কি সম্ভব! পিএসজিকে হটিয়ে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগে টিকে থাকবে এই স্বপ্নটা অবশ্য অনেকেই দেখছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা বলছিল, এই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম লেগে পিএসজির মাঠ থেকে ৪-০ ব্যবধানে হেরে এসেছিল বার্সেলোনা। দ্বিতীয় লেগে এই রকম ব্যবধান ঘুচিয়ে কোনো দলের টিকে থাকার ইতিহাস নেই। 

barcelona celebrating after beating psg by 6 1

তারপরও ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার আসরটিতে টিকে থাকতে হলে অবিশ্বাস্য একটা ইতিহাসই গড়তে হতো মেসিদের। কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে কোন দলই চার গোলে পিছিয়ে পরে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি। লিওলেন মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজরা অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখানোর জন্যই তো বার্সেলোনায়; সেটাই যেনো প্রমাণ করে দিলেন তারা। বুধবার রাতে ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগে পিএসজিকে ৬-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে বার্সা। যাতে ৬-৫ ব্যবধানে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আট নিশ্চিত হলো বার্সেলোনার।

বার্সেলোার এমন ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প অল্প কথায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়। ম্যাচ শেষে রাকিতিচ কেবল বললেন, 'এটাই বার্সেলোনা।' সত্যি কথা বলতে, এর চেয়ে বেশি শব্দ ব্যবহারেও যে অর্থ দাঁড়াবে, তা বলবে এই কথাটাই- এটাই বার্সেলোনা!

ম্যাচটা বার্সেলোনাকে জিততে হতো অন্তত পাঁচ গোলের ব্যবধানে। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে সেটা চার বানিয়ে ফেলেন লুইস সুয়ারেজ। দারুণ এক গোল করে বার্সাকে ১-০ তে এগিয়ে নেন। ৪০ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে ২-০ তে এগিয়ে যায় বার্সা। ৫০ মিনিটে মেসির গোলে ৩-০। তখনও কি স্বপ্নটা দেখছিলেন সবাই! হয়তো না। কারণ মেসির গোলের কিছুক্ষণ পরই পিএসজির হয়ে গোল করেন এডিনসন কাভানি।

অর্থাৎ আরও তিন গোলের প্রয়োজন ছিল বার্সেলোনার। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট আগেও সমীকরণ এমন ছিল। তারপরও শেষ পর্যন্ত কঠিন সমীকরণটা মিলে গেল। মিলে গেল না বলে বলতে হবে মিলিয়ে দিলেন নেইমার।

বার্সার জার্সিতে শেষ কয়েক মিনিটে যেন অন্য গ্রহের ফুটবল খেললেন ব্রাজিল তারকা। ৮৮ মিনিটে বার্সেলোনার হয়ে চার নম্বর গোলটা করলেন। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মেসির বদলে ফ্রি কিক- পেনাল্টি নিয়ে গোল করেছেন। ম্যাচে বার্সা তখন ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৫ ব্যবধানের সমতা।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার আগে বিস্ময় ও অবিশ্বাসের ষোলকলা পূরণ করলেন নেইমার। দুর্দান্ত প্রচেষ্টায় সার্জিও রোবের্তোকে দিয়ে গোল করিয়ে নেন তিনি। সাথে সাথেই ন্যু ক্যাম্প যেন উত্তাল সাগর। বার্সেলোনার ফুটবলারদের বিশ্ব জয়ের উল্লাস। সঙ্গে সঙ্গে বার্সেলোনার উল্লাসে শামিল হয়ে যায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাদের অগণন ভক্তও।