advertisement
আপনি পড়ছেন

তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর রীতিমতো যেন উড়ছে ব্রাজিল। আগের টানা ছয় ম্যাচ জিতেছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু সপ্তম ম্যাচটাও যে একতরফা উল্লাস করে যাবেন ব্রাজিলিয়ানরা অনেকেই হয়তো অনুমান করেননি। আজ ভোরে ব্রাজিল যে মুখোমুখি হয়েছিল শক্তিশালী উরুগুয়ের। ম্যাচটা আবার উরুগুয়ের মাঠে। ফলে হাড্ডাহাড্ডি একটা লড়াইয়ের আভাস ছড়াচ্ছিল। কিন্তু কিসে কি, উরুগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল নেইমারের ব্রাজিল।

neymar vs uruguay

ব্রাজিলের এই জয়ে বরাবরের মতোই উজ্জল ছিলেন নেইমার। এক গোল করেছেন, একটি করিয়েছেন বার্সেলোনার এই তারকা। তবে আজ নেইমারকে ছাপিয়ে নায়কের আসনে পাউলিনহো। আগে ব্রাজিলের জার্সিতে গোল পেয়েছিলেন মাত্র একটি। কিন্তু আজ একাই করলেন তিন গোল। একদিন আগে উরুগুয়ের কোচ অস্কার তাবারেজ বলেছিলেন, ‘নেইমারকে আটকানোর উপায় জানা নেই।’ কিন্তু আসল সর্বনাশটা যে পাউলিনহো করবেন সেটা কি আর আন্দাজ করতে পেরেছিলেন উরুগুয়ের কোচ।

ব্রাজিল একতরফা জয় পেলেও শুরুতে অবশ্য এগিয়ে গিয়েছিল উরুগুয়েই। রেফারির পেনাল্টি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক চলা অবস্থাতে ম্যাচের নবম মিনিটে স্পষ্ট কিক থেকে উরুগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এডিনসন কাভানি। এই গোলটাই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল উরুগুয়ের জন্য।

কারণ এই গোলের পরই দেখা গেল আসল ব্রাজিলকে। যেন তেতে উঠতে চাইছিলেন নেইমার-কুতিনহো-পাউলিনহো-ফিরমিনোরা। যার ফল পেতেও বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রাজিলিয়ানদের। ২০ মিনিটে নেইমারের পাস থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে ব্রাজিলকে ১-১ সমতায় ফেরান পাউলিনহো।

৫২ মিনিটে আবারও দৃশ্যপটে পাউলিনহো। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের বদলি হিসেবে সুযোগ পাওয়া ফিরমিনোর শট রুখে দেন পর্তুগাল গোলরক্ষক। কিন্তু পুরো বিপদমুক্ত করতে পারেননি। পাওলিনহো বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।

ব্রাজিলিয়ানরা উল্লাস করবে আর তাতে নেইমারের উপলক্ষ থাকবে না তা কি হয়! ব্রাজিলের জার্সিতে অনেক দিন ধরেই তো গোল করাটা নিয়ম বানিয়ে ফেলেছেন ২৫ বছর বয়সী তরুণ। ৭৪ মিনিটে উল্লাস করেছেন নেইমার। নিজেদের অর্ধে বল বিপদমুক্ত করতে বড় শট নিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মিরান্ডা।

সেই বলই ধরে উরুগুয়ের দুই ডিফেন্ডার আর গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন নেইমার। ব্রাজিল তখন ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে। জয়ের আনুষ্ঠানিকতা ততক্ষণে শেষ। যোগ করা সময়ে একটি গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক কেবল পূরণ করেছেন পাউলিনহো।

৪-১ গোলের এই জয়ের পর বলা যায় আগামী রাশিয়ার বিশ্বকাপ নিশ্চিত ব্রাজিলের। কারণ ইতিহাস বলছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে ২৮ পয়েন্ট পেলেই বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত হয়ে যায়। সেখানে এই জয়ের পর টেবিলের শীর্ষে থাকা ব্রাজিলের পয়েন্ট দাঁড়ালো ৩০।