advertisement
আপনি পড়ছেন

কে বলবে কয়েক মাস আগেও ধুঁকছিল এই ব্রাজিল। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ দুঃস্বপ্নের পর কার্লোস দুঙ্গার অধীনে ‘বিশ্রি’ এক ব্রাজিলকে দেখেছে ফুটবলবিশ্ব। ব্রাজিলের ফুটবলপ্রাণ মানুষও বিষিয়ে উঠেছিল ব্রাজিল ফুটবল নিয়ে। কিন্তু এখন? রাতারাতিই যেন ব্রাজিলকে পাল্টে দিয়েছেন দুঙ্গার জায়গায় কোচের দায়িত্ব নেওয়া তিতে। নেইমার-কুতিনহোরা এখন অন্য গ্রহের ফুটবল খেলে। আজ প্যারাগুয়ের বিপক্ষেই তার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ দেখা গেল। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে সাও পাওলোতে প্যারোগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। ঘরের মাঠে দারুণ এক জয়ই পেয়েছেন নেইমাররা।

neymar vs paraguay

সুন্দর ফুটবলের প্রদর্শনী দেখিয়ে প্যারাগুয়েকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। এই জয়ের পর আগামী রাশিয়ার বিশ্বকাপে পৌঁছার রাস্তা পুরোটাই পাড়ি দেওয়া হলো ব্রাজিলের। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে ২৮ পয়েন্ট পেলেই বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত হয়ে যায়। সেখানে ব্রাজিলের পয়েন্ট দাঁড়ালো ৩৩।

নিষেধাজ্ঞার কারণে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা দলের হয়ে খেলতে পারেননি। আর্জেন্টিনার আগামী চার ম্যাচও খেলতে পারবেন না। আর ফুটবলবিশ্বকে মেসির শূন্যতার বেদনা কমানোর পন করেই হয়তো মাঠে নেমেছিলেন বন্ধু নেইমার! ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমার বরাবরই দুর্দান্ত। কিন্তু আজ যেন অন্যগ্রহের ফুটবল খেললেন ব্রাজিল অধিনায়ক।

নেইমারের ড্রিবলিং, পাসিং, গতির জবাব দিতে পারেনি প্যারাগুয়ে। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে যে গোলটা করলেন সেটাতেই বেশি করে মনে হলো মেসির কথা। এমন গোল তো সাধারণত মেসিই করে থাকেন!

বল পেয়েছিলেন নিজেদের অর্ধে। সেখানেই একজনকে পরাস্ত করে ভো দৌড়। পরে আরও এক ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে ডুকে পড়লেন প্যারাগুয়ের ডি-বক্সে। তিন ডিফেন্ডার ঘিরে ধরলেন, কিন্তু তাদের ফাঁক গলে গোলে শট নেইমারের, গোল! অসাধারণ।

ব্রাজিল অবশ্য এগিয়ে গিয়েছিল তার আগেই। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে স্বাগতিকদের প্রথম গোল এনে দেন ফিলিপে কুতিনহো। এই গোলটাও চোখে লেগে থাকল অনেক্ষণ। প্রায় মাঝ মাঠ থেকে একাই বল টেনে নিয়ে ডি-বক্সের সামনে থেকে দ্বিতীয় বার ঘেসে বল জালে জড়িয়ে দিয়েছেন কুতিনহো।

৮৬ মিনিটে নেইমার-কুতিনহোর বানিয়ে দেওয়া বলে শেষ ফিনিশিং দিয়ে ব্রাজিলকে তিন নম্বর গোলটা এনে দিয়েছেন মার্সেলো। যাতে শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের রাজসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ছে ব্রাজিল। তবে নেইমাররা যখন হাত নাড়তে নাড়তে মাঠ ছাড়ছিলেন, গ্যালারি থেকে বা টিভি পর্দার সামনে থাকা অনেকেই হয়তো বলতে চাইছিলেন ‘যেও না, আর কিছুক্ষণ মাঠে থাক, জাদু দেখাও’।