advertisement
আপনি পড়ছেন

‘ভিনগ্রহের ফুটবল খেলছেন’ কথাগুলো সাধারণত লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে আগামীর মেসি-রোনালদো হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে যিনি, সেই নেইমার তো চাইবেনই তাকে নিয়েও লোকে এমন কথা বলুক। নেইমারের সেই চাওয়াটা এমন সময় পূরণ হচ্ছে, যখন মাঠের বাইরে তাকে নিয়ে কত আলোচনা-সমালোচনা।

neymar vs juventus

তাকে দলে পেতে বার্সেলোনা আর পিএসজির মধ্যে যে টানাটানি লেগেছে, তাতে অনেকদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে আলোচিত নাম নেইমার। দুই ক্লাবের টানাটানিতে তার উপর দিয়েও যে কম ঝক্কি যাচ্ছে না সেটা অনুমানের জন্য পণ্ডিত হতে হয় না।

এদিকে, এই ঝাক্কি-ঝামেলার মধ্যেই একদিন আগে আবার খবরের শিরোনাম হলেন ভিন্ন এক কারণে। অনুশীলনে সতীর্থের সঙ্গে মারামারি বাধিয়ে দিয়েছিলেন নেইমার। হয়তো পরিস্থিতি নিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন বলেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি অনুশীলনে। এটা নিয়ে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা চালিয়েই যাচ্ছে। তবে সবকিছুকে এক পাশে রেখে ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ভিনগ্রহের ফুটবলই খেললেন নেইমার। 

মৌসুম শুরুর আগ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে প্রথম ম্যাচে জুভেন্টাসের বিপক্ষে নেইমারকে ৪৪ মিনিট খেলিয়েছেন বার্সা কোচ ভালভারদে। এই ৪৪ মিনিটের ফুটবলেই জুভেন্টাসকে অনেকটা একাই হারিয়ে দিয়েছেন নেইমার। সে ম্যাচে ২-১ গোলে জিতে বার্সেলোনা, দুটি গোলই নেইমারের ওই ৪৪ মিনিটে করা। দুই গোলের চেয়ে আলোচনা বেশি হয়েছে মাঠে যেভাবে বল পায়ে ফুল ফুটিয়েছেন ব্রাজিল সুপারস্টার।

neymar july 2017

দ্বিতীয় ম্যাচের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষেও সেই একই ঘটনা ঘটান তিনি। তাদের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে বার্সা, একমাত্র গোলটি নেইমারের পা থেকেই এসেছে। ওই ম্যাচের গোলের চেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে মাঠে নেইমারের দাপট নিয়ে।

আজ ‘এল ক্লাসিকো’ খেলতে নেমে গোল পাননি নেইমার। তবে সার্জিও রামোস, মার্সেলো, কারবাহাল, ভারনের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্সে বিপক্ষে যে দাপট দেখালেন নেইমার, চোখে লেগে থাকার মতো। গোল পাননি ঠিক। তবে গোলের তালিকায় কিন্তু নেইমারের নামটা আছেই, দুইবার। আজ রিয়ালের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। বার্সার তিন গোলের দুটিই নেইমারের বানিয়ে দেওয়া। ম্যাচে যখন ২-২ ব্যবধানে সমতা ৫০ মিনিটে জেরার্ড পিকেকে দিয়ে জয়সূচক যে গোলটা করিয়ে নিলেন এক কথায় অসাধারণ।

ডি-বক্সের বাইরে বাঁ কোনে ফ্রি-কিক পেয়েছিল বার্সেলোনা। মেসিকে দাঁড়িয়ে রেখে ফ্রি-কিক নিলেন নেইমার। কিন্তু পোষ্টে শট না নিয়ে রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের নিয়ন্ত্রনের বাইরে নিলেন শট। জেরার্ড পিকেকে তার আগে চোখের ভাষায় বলে দেওয়া হয়েছে, বল যাচ্ছে সেখানে। পিকে প্রস্তুতই ছিলেন, গোল। যাতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে বার্সেলোনা। এমন একজনকে হারাতে কে আর চায়। কিন্তু নেইমারকে শেষ পর্যন্ত রাখতে পারবে তো বার্সেলোনা?