advertisement
আপনি পড়ছেন

দরজায় কড়া নাড়ছে রাশিয়া বিশ্বকাপ। আড়াই মাস পরই শুরু হবে আয়োজন। বিশ্বকাপ যতো কাছে চলে আসছে, আর্জেন্টিনা সমর্থকদের চিন্তা যেন ততোই বেড়ে যাচ্ছে! ‘ভাগ্যের জোরে’ বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব পেরিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমে কাল স্পেনের বিপক্ষে ছয় ছয়টি গোল হজম করতে হয়েছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এই দলটি যেনো ২০১০ বিশ্বকাপের সেই ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

gonzalo higuain vs spen

দিয়েগো ম্যারাডোনার বিস্ময়কর ফুটবলে সেই ১৯৮৬ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা। প্রায় দুই যুগেও যখন আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপার দেখা মিলছিল না, তখন ২০০৮ সালের শেষ ভাগে দিয়েগো ম্যারাডোনাকে কোচের চেয়ারে বসিয়েছিলো আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন। প্রত্যাশা ছিল ১৯৮৬ সালে যেভাবে মাঠে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন, কোচের চেয়ারে বসে তার পুণরাবৃত্তি ঘটাবেন ম্যারাডোনা।

লিওনেল মেসি নামের একজন জাদুকরকে কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় শিরোপা এনে দিবেন এমনটাই মনে করা হচ্ছিলো। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে বিধ্বস্ত হয়ে আর্জেন্টিনকে ফিরতে হয়েছিলো খালি হাতে।

ভাগ্য সহায় না হলে আর্জেন্টিনা সেবার কোয়ার্টার ফাইনাল কেন, বিশ্বকাপই খেলতে পারতো না। এবারের মতো বাছাই পর্ব পেরুনো নিয়েই শঙ্কা জেগেছিল ম্যারাডোনা-মেসির দলের। বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের আগে বাছাই পর্বের এক ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবারও ধুঁকতে ধুঁকতে বাছাই পর্ব পার হয়ে আবার ছয় গোলের লজ্জা।

এবার বাছাই পর্বে আর্জেন্টিনার জন্য সমীকরণ ছিল শেষ ম্যাচ অবশ্যই জিততে হবে আবার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে অন্যদের কাছে হারতে হবে। দুটি সমীকরণ মিলেছিল বলেই রাশিয়ার টিকিট নিশ্চিত হয়েছে মেসিদের। তবে রাশিয়া পৌঁছার আগ মুহূর্তে কাল স্পেনের বিপক্ষে হারতে হয়েছে ৬-১ গোলের ব্যবধানে। কালকের ম্যাচে অবশ্য লিওনেল মেসি, সার্জিও আগুয়েরো, ডি মারিয়ারা কেউ ছিলেন না আর্জেন্টিনা দলে। তারপরও এতো বড় হার কি আর মানা যায়! এই হারটা নিঃসন্দেহে কমিয়ে দিবে আত্মবিশ্বাস।

এখন দেখার বিষয়, ম্যারাডোনার সেই আর্জেন্টিনার মতো এই আর্জেন্টিনাও বিশ্বকাপের মূল আসরেও থুবরে পড়ে কিনা। নাকি ইতিহাসের বাঁধা জয় করে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় শিরোপা এনে দেবেন লিওনেল মেসি।