advertisement
আপনি পড়ছেন

অনেক বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ২০১৩ সালে নেইমারকে দলে ভিড়িয়েছিল বার্সেলোনা। লিওনেল মেসির সঙ্গে নেইমারের বয়সের পার্থক্য প্রায় পাঁচ বছর। কাতালান ক্লাবটির চিন্তা ছিল বয়সের ভারে লিওনেল মেসি যখন ফুরিয়ে যাবেন তখন বার্সার মাঠের সেনাপতি হবেন নেইমার। মেসি যুগ শেষ হওয়ার পর তাদের দলে যেন বিশ্বসেরা একজন থাকে সেই লক্ষ্যেই অনেক কাঠখড় পুরিয়ে নেইমারকে দলে ভিড়িয়েছিল বার্সা।

neymar psg barcelona

কাতালান ক্লাবটির ভাবনা ঠিকভাবে এগুচ্ছিলও। বার্সায় এসে নিজের প্রতিভাকে শানিত করে এখনই বিশ্বের অন্যতম সেরা বনে গেছেন নেইমার। আর কয়েক মৌসুম পর লিওনেল মেসি যখন অবসর নিয়ে নিবেন তখন বার্সার মাঠের নেতা হিসেবে তার উপযুক্ত বিকল্পই হতে পারতেন নেইমার। কিন্তু তেমনটা আর হলো কই! বার্সেলোনা ছেড়ে এই মুহূর্তে পিএসজিতে ব্রাজিলিয়ান তারকা।

লিওনেল মেসির ছায়া থেকে বেরিয়ে কোনো ক্লাবের নেতা হতে চান বলে চলতি মৌসুমের আগে বার্সেলোনা ছেড়েছেন নেইমার। বার্সেলোনা নেইমারকে ধরে রাখার সব রকমের চেষ্টা করেছে। লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ, জেরার্ড পিকে, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার মতো ফুটবলাররা নেইমারকে না যাওয়ার জন্য বুঝিয়েছেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। স্প্যানিশ গণমাধ্যমে এমন খবরও বেরিয়েছিল, মেসি নাকি নেইমারকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন আস্তে আস্তে তার কাছে মাঠের লিডাশিপ তুলে দিবেন। কিন্তু ব্রাজিল তারকার এই প্রস্তাব পছন্দ হয়নি।

গত বছর মেসির বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় নাকি নেইমার সতীর্থদের জানিয়ে দেন বার্সা ছাড়তে চান তিনি। অনেক বুঝানোর পরও এই সিদ্ধান্ত থেকে নেইমারকে সরাতে পারেনি বার্সেলোনার কেউই। ২২২ মিলিয়ন রিলিজ ক্লজ মিটিয়ে নেইমারকে উড়িয়ে নিয়ে যায় পিএসজি। মজার ব্যাপার, এক মৌসুম না যেতেই পিএসজির বর্তমান ‘দশা’ নাকি বার্সেলোনার মতোই!

অনেকদিন যাবতই স্প্যানিশ এবং ফরাসি ফুটবলে গুঞ্জন পিএসজি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে যাচ্ছেন নেইমার। রিয়াল মাদ্রিদ নেইমারকে পেতে উঠেপড়ে লেগেছে এটা সবার জানা। এদিকে, কদিন আগে নেইমার নাকি তার পিএসজি সতীর্থদের জানিয়ে দিয়েছেন যে রিয়ালে যেতে ইচ্ছুক তিনি!

ফ্রেঞ্চ কাপ জয়ের আনন্দে গত বুধবার এক নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন পিএসজির ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক থিয়েগো সিলভা। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লা প্যারিসিয়ান’ ও স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’ জানিয়েছে, ওই নৈশভোজে নাকি নেইমার পিএসজি সতীর্থদের রিয়ালে যোগ দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।

অর্থাৎ বছর খানেক আগে বার্সেলোনা যেমন অবস্থায় ছিল পিএসজির বর্তমান ‘দশা’ ঠিক তেমনই! দেখা যাক, জল কোথায় গড়ায়।