advertisement
আপনি পড়ছেন

টমাস টুচেল। বায়ার্ন মিউনিখের নতুন কোচ হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু জার্মান গণমাধ্যমের সেসব গুজব মিথ্যে প্রমাণ হয়ে গেল। বায়ার্ন নয়, প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) কোচ হিসেবে নিযুক্ত হলেন ক্ষ্যাপাটে এই কোচ।

thomas tuchel psg coach

ফ্রেঞ্চ ঘরোয়া ফুটবলে ট্রেবল জিতে মৌসুম শেষ করেছিলেন বিদায়ী কোচ উনাই এমেরি। কিন্তু আসল ট্রেবলের জন্য পিএসজির দরকার ছিল উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা। কিন্তু স্বপ্নটা অধরা থেকে গেছে প্যারিসের ক্লাবটির। এমেরির বিদায়ের গুঞ্জনটা তখন থেকেই ছিল।

অবশেষে সেটাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। অগ্রিম বিদায় বলে দিয়েছিলেন এমেরি। সোমবার তার শূন্যস্থান বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সাবেক কোচ টুচেলকে দিয়ে পূরণ করেছে পিএসজি। এমেরি, কার্লো আনচেলত্তি, লরা ব্লা’র মতো কোচরা যেটা পারেননি সেই কাজটার জন্যই জার্মান কোচের হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দিলেন পিএসজি প্রেসিডেন্ট নাসের আল খেলাইফি।

তাতে করে শুরু হয়ে গেল পিএসজিতে দলীয় কোন্দলের একটা আশঙ্কা। কারণ শিষ্যদের সঙ্গে টুচেলের দ্বন্দ্বে জড়ানোর অনেক ঘটনাই আছে। এ কারণে তাকে ক্ষ্যাপাটে কোচও বলা হয়ে থাকে। দলে কোচই শেষ কথা- হোসে মরিনহোর মতো এই নীতিতে যে টুচেলও চলেন!

নেইমার ভক্তরা একটু দুশ্চিন্তায় পড়তেই পারেন। কেননা এতদিন পিএসজির দায়িত্বে ছিলেন ঠাণ্ডা মাথার কোচ এমেরি। শেষ দিকে আসা মৌসুমের শুরুর দিকে নেইমার এবং কাভানি যেভাবে বিবাদে জড়িয়েছিলেন সেটার সমাধান দিতে পারেননি তিনি। উল্টো নেইমারের সঙ্গেও তার দ্বন্দ্ব হয়েছিল এমেরির। তাতে জয় হয়েছে ব্রাজিলিয়ান সেনসেশনেরই।

এখানে অবশ্য নেইমারের দাম্ভিকতাই বেশি ফুটে উঠেছিল। অবশ্য কোচদের সঙ্গে তারকা ফুটবলারদের আধিপত্যের লড়াই নতুন কিছু নয়। পিএসজির নতুন কোচের মাথা আবার খুব গরম। নেইমারের মতো বেপরোয়া ফুটবলারের সঙ্গে টুচেলের আবার লেগে যায় কিনা সেটাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াল।

গত বছর বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে জার্মান কাপ জিতিয়েছিলেন টুচেল। কিন্তু ক্লাবের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে ফাইনালের তিনদিন পরই শেষ অবধি সরে যেতে হয় তাকে। দলের বড় তারকা ম্যাট হ্যামেলস এবং অধিনায়ক নুরি শাহিনের সঙ্গে টুচেলের দ্বন্দ্বটাও প্রকাশ্যে চলে এসেছিল।

শুধু ডর্টমুন্ড নয়, আরেক জার্মান ক্লাব মেইঞ্জ অধ্যায়েও খেলোয়াড়দের সঙ্গে টুচেলের সম্পর্কটা ভালো ছিল না। কিন্তু রণকৌশল এবং কোচিংয়ের কারণে তার চাহিদা অনেক ছিল। আর্সেনাল এবং বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবগুলোও টুচেলকে চেয়ে পায়নি। ৪৪ বছর বয়সী এই কোচ বেছে নিলেন পিএসজিকে। প্যারিসে নতুন ঠিকানায় টুচেলের সঙ্গে খেলোয়াড়দের সম্পর্কটা কেমন হয় সেটাই আপাতত দেখার।