advertisement
আপনি পড়ছেন

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্নটা শেষ হয়ে গেছে আগেই। ইউরোপা লিগে খেলতে এসে সেই দুঃস্মৃতির ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়নও হয়ে গেল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। লা লিগার সাবেক চ্যাম্পিয়নদের জন্য যা অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতোই ব্যাপার।

atletico madrid won the europa league

বুধবার লিঁওর ফাইনালে অলিম্পিক মার্শেইকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে শিরোপা জিতে নিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। এদিন লিঁওকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। মাদ্রিদ জায়ান্টদের দারুণ জয়ের নায়ক অ্যান্তনিও গ্রিজম্যান, করেছেন জোড়া গোল।

ইউরোপের দ্বিতীয় সারির ক্লাব প্রতিযোগিতায় গত নয় বছরের মধ্যে এনিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতল অ্যাটলেটিকো। কালকের আগে ২০০৯-১০ এবং ২০১১-১২ মৌসুমে ইউরোপা লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছিল অ্যাটলেটিকো। তাদের সমান তিনটি শিরোপা জিতেছে ইন্টার মিলান, জুভেন্টাস ও লিভারপুল। সেখানে সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেভিয়া। 

একপেশে ম্যাচটা অবশ্য শুরুর দিকে জমে উঠেছিল। ম্যাচের চার মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেন মার্শেইর ফরোয়ার্ড ভালেহে। একটু পর আদিল রেমির শট গোল পোস্টের পাশ দিয়ে বেড়িয়ে যায়।

শুরুতেই অ্যাটলেটিকোকে চেপে ধরলেও সেটা অব্যাহত রাখতে পারেনি মার্শেই। উল্টো ম্যাচের ২১ মিনিটে গোল হজম করে বসে ফ্রেঞ্চ ক্লাবটি। সেটাও নিজেদের ভুলে। গোলরক্ষকের পাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি মার্শেই মিডফিল্ডার জাম্বো আগিসো। বল পেয়ে গ্রিজম্যানকে দেন গাবি।

সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন ফ্রেঞ্চ ফরওয়ার্ড। মার্শেইর জালে বল জড়িয়ে অ্যাটলেটিকোকে উচ্ছ্বাসে ভাসান গ্রিজম্যান। তবে ফ্রান্সের দর্শকদের বুক কেঁপে উঠল ম্যাচের বয়স আধ ঘণ্টা পার হওয়ার পরপরই। পায়ের ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন মার্শেই অধিনায়ক পায়েট।

ফ্রেঞ্চ তারকার মাঠ ছাড়ার দৃশ্যটা ভেসে উঠল অনেকটা অশনি সংকেতের মতোই। পায়েটের চোখের জল বলে দিচ্ছিল আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না তার। ক্লাবের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে নিজের স্বপ্নটারই বোধহয় বিসর্জন দিতে হলো তাকে।

বিরতি থেকে মাঠে ফিরেই ব্যবধান বাড়ান গ্রিজম্যান। কোকের সহায়তায় করেন ম্যাচের ও নিজের দ্বিতীয় গোল। এই মৌসুমে এনিয়ে ২৯তম গোল করলেন ফ্রেঞ্চ ফরওয়ার্ড। ইউরোপা লিগের ফাইনালটা মূলত শেষ হয়ে গেছে ওখানেই।

আসলে মার্শেইর ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনাটা উড়িয়ে দিয়েছে গোল পোস্ট। এদিন কন্সটান্তিনাস মিত্রগলুলের মাথাস্পর্শী বলটা ফিরে আসে পোস্টে লেগে। ব্যবধান কমাতে না পারা মার্শেইকে ম্যাচের শেষ দিকে আরেকটি গোল দেয় অ্যাটলেটিকো। স্কোর লাইন ৩-০ করেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ অধিনায়ক গাবি।

ছয় বছর আগে শেষবার স্প্যানিশ ক্লাবটিকে ইউরোপা লিগ জিতিয়েছিলেন ডিয়েগো সিমন। কিন্তু কালকের উৎসবমুখর ফাইনালে ডাগ আউটে দাঁড়ানোর সৌভাগ্যটা হয়নি তার। নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্যালারিতে বসেই খেলা দেখতে হয়েছে আর্জেন্টাইন কোচকে। শেষ বাঁশি বাজার পরপরই মাঠে নেমে শিষ্যদের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনে মেতে ওঠেন সিমন।