advertisement
আপনি পড়ছেন

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। একবার দুবার নয়, পাঁচ পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ল্যাটিন পরাশক্তিরা। অথচ স্বপ্নের প্রথম ট্রফিটার জন্য সেলেকাওদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৯৫৮ সুইডেন বিশ্বকাপ পর্যন্ত। ষষ্ঠ আসরেই বাজিমাত করে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল এই দেশটি। ব্রাজিলের ওই স্বপ্নযাত্রার সারথি ছিলেন কালো মানিক খ্যাত পেলে।

brazil celebrate their championship

এনিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপের মাটিতে বসেছিলো বিশ্বমঞ্চ। যেটা শুরুর আগেই সাক্ষ্যি হয় অঘটনের। দুইবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে পার হতে পারেনি বাছাইপর্বের বাধা। তাদের হারিয়ে মূলপর্বে জায়গা করে নেয় প্যারাগুয়ে। এই বিশ্বকাপ দিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছে আর্জেন্টিনা। দুই দশক পর আর্জেন্টানরা ফুটবল মহাযজ্ঞে ফিরলেও আসরটার মঞ্চায়ন হয়েছে আফ্রিকান ও এশিয়ান কোনো প্রতিনিধি ছাড়াই।

তিন মহাদেশের মোট ১৬টি দল নিয়ে আয়োজন করা হয় সুইডেন বিশ্বকাপ। অংশ নেওয়া দলগুলো হচ্ছে- সুইডেন (স্বাগতিক), পশ্চিম জার্মানি (চ্যাম্পিয়ন), ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, ইংল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, প্যারাগুয়ে, চেকোস্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুগোস্লাভিয়া।

আগের পাঁচটি বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ নির্ধারণ নিয়ে কম বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফাকে। তবে সুইডেন বিশ্বকাপই ছিল ব্যতিক্রম। কোনো সংকট ছাড়াই সুইডিশদের হাতে আসরের আয়োজন তুলে দেয় ফিফা। যদিও ভোটাভুটির লড়াইয়ে সুইডেনকে হারাতে হয়েছে আর্জেন্টিনা, চিলি ও মেক্সিকোকে।

বিশ বছর পর ফেরার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স ছিল সাদামাটা। ম্যারাডোনা-মেসি-বাতিস্তুতাদের দেশকে বিদায় নিতে হয় গ্রুপপর্বেই, ১০ গোল হজম করে। আগের আসরের রানার্সআপ হাঙ্গেরির শুরুতে ছিটকে যাওয়াও ছিল বড় অঘটন। যদিও ওই আসরে সেরা দল নিয়ে খেলতে পারেনি হাঙ্গেরি। কারণ আগের বিশ্বকাপের গোলরক্ষক ছাড়া অন্য কোনো খেলোয়াড় ছিল না এই হাঙ্গেরির এই দলে।

অঘটন-অঘটনের বিশ্বকাপে আলোচনায় ছিল শুধুই ব্রাজিল। অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে মিশন শুরু করা সেলেকাওরা অভিযান শেষ করেছে স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে ৫-২ গোলের জয় দিয়ে। এর মধ্যে গ্রুপপর্বে নিজেদর দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ওটাই ছিল প্রথম ড্র। যদিও আগে নিয়ম ছিল- ম্যাচের নিষ্পত্তি না হলে সেটা গড়াতো পরের দিনে।

প্রথম দুই ম্যাচে ছিলেন রিজার্ভ বেঞ্চে। ১৭ বছর বয়সী বিস্ময় বালকের অভিষেকটা হলো তৃতীয় ম্যাচে। কিন্তু ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে আলোচনায় এলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। ৬৬ মিনিটে তার একমাত্র ও জয়সূচক গোলে ব্রাজিল প্রায় সেমিফাইনালের টিকিট। পেলের গোলটাও ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছিল। বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে গোলটা করেছিলেন ১৭ বছর বয়সী তরুণ। পরের ম্যাচে ফ্রান্সকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলের মহাতারকা। সেমিফাইনালের মঞ্চে পেলে করেছেন হ্যাটট্রিক। ব্রাজিল ফাইনালে ওঠে ৫-২ গোলের জয়ে।

ফাইনালেও ঝড়ল পেলে আগুন। সে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় স্বাগতিক সুইডেনের স্বপ্নের বিশ্বকাপ। ফ্রান্সের মতো একই পরিণতি বরণ করতে হলো সুইডিশদের। ব্রাজিলের পাঁচ গোলের দুটি করেছেন পেলে নিজে। আর তাতে আট বছর আগের মারাকানা ট্রাজেডি ব্রাজিলিয়ানরা কিছুটা হলেও ভুলতে পারল প্রথম বিশ্বকাপ জিতে। ইউরোপে এসে ল্যাটিন কোনা দলের ট্রফি জযের দৃশ্যটা সেবারই দেখা গেল প্রথম।

নক আউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচই পেলে নির্ধারণ করে দিয়েছেন ব্রাজিলের পক্ষে। কিন্তু নক আউট পর্ব মাতিয়ে এবং টুর্নামেন্টে ছয় গোল করেও গোল্ডেন বুট পাননি পেলে। তিনি হয়েছেন ওই বিশ্বকাপের উদীয়মান সেরা ফুটবলার। বিস্ময়কর তথ্যটা হচ্ছে- ছয় ম্যাচে ১৩ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতে নেন ফ্রান্সের ফুটবলার ফন্টেইন। এক আসরে কোনো ফুটবলারের এতগুলো গোল দেখেনি বিশ্বকাপ!