advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 15 মিনিট আগে

কীভাবে লিওনেল মেসিকে আটকানো যায় সেই উপায় আগে থেকেই বলে দিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইতিহাসের সেরা কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। তবে বার্সেলোনা অধিনায়ককে আঘাত না করার অনুরোধ করেছিলেন স্কটিশ কিংবদন্তি। ফার্গির বারণ শোনেননি ক্রিস স্ম্যালিং। প্রথমার্ধের মাঝপথে ঠিকই মেসিকে আঘাত করেছেন ম্যানইউ ডিফেন্ডার।

messi and suarez celebrate an own goal

স্ম্যালিং ঝরিয়েছেন মেসির রক্ত। তবে প্রতিপক্ষ প্রাণভোমরাকে বোতলবন্দি রাখলেও বার্সেলোনার জয় ঠেকাতে পারেনি রেড ডেভিলসরা। বুধবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে এসেই তাদের হারিয়ে দিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে কাতালান জায়ান্টরা জিতেছে ১-০ ব্যবধানে; লুক শ'র আত্মঘাতী গোলে।

কষ্টার্জিত এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে গেল বার্সেলোনা। আগামী মঙ্গলবার ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে ড্র করলেও সমস্যা হবে না বার্সার। অন্যদিকে, স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বার্সার মাঠে জয়ের বিকল্প নেই ইংলিশ ক্লাবটির। রক্ষণাত্মক ফুটবলের ধারক ও বাহক হয়ে ওঠা ম্যানইউর জন্য কাজটা কঠিনই হওয়ার কথা।

বার্সেলোনার বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুতেই রক্ষণাত্মক কৌশলের আশ্রয় নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ ওলে গানার সুলশার। কিন্তু আঁটসাঁট রক্ষণ খেলানোর যে ছক সুলশার বানিয়েছেন সেটা বুমেরাং হয়ে গেছে প্রথম বাঁশির কয়েক মিনিট পরই। বার্সার আক্রমণ সামলাতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসে তারা। নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে খলনায়ক বনে গেলেন লুক শ।

ম্যাচের বয়স তখন সবেমাত্র ১২ মিনিট! ডি-বক্সে লুইস সুয়ারেজকে ক্রস দিয়েছিলেন মেসি। উরুগুয়েন স্ট্রাইকার বলে ছুঁয়েছেন মাথা। কিন্তু লুক শ'র গায়ে লেগে বল পেরিয়ে যায় গোল লাইন। রেফারি বাজান গোলের বাঁশি। কিন্তু লাইন্সম্যান পতাকা তোলেন অফসাইডের। ভিএআর ছাড়া উপায় ছিল না। পর্যবেক্ষণের পর দেখা গেল লাইন্সম্যানেরই ভুল হয়েছে। লিডট নেয় কাতালানরা।

messi left bloodied nose smalling half old trafford

গোল হজমের পর রক্ষণ ছেড়ে বেরিয়ে আসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে কয়েকটা আক্রমণ করলেও সেগুলো গোলমুখে ছিল না। ফরওয়ার্ডদের ব্যর্থতায় ম্যাচেও আর ফিরতে পারেনি রেড ডেভিলসরা। ব্যবধান বাড়াতে পারেনি বার্সেলোনাও। তাই ভাগ্যবশৎ আত্মঘাতী গোলের ওপর দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় এরনেস্তো ভালভার্দের দল।

বার্সার জয়োৎসব কিছুটা হলেও ফিকে হয়ে গেছে মেসির ইনজুরিতে। ৩০ মিনিটে লাফিয়ে হেড করতে গিয়ে বার্সা অধিনায়কের নাকে আঘাত করেন স্ম্যালিং। রক্ত ঝড়ে আর্জেন্টাইন তারকার। অথচ স্ম্যালিংকে কোনো কার্ডই দেখাননি রেফারি! দ্বিতীয়ার্ধে সুয়ারেজকেও একই কায়দায় ফাউল করেছেন ম্যানইউ ডিফেন্ডার। এবার আর হলুদ কার্ড থেকে ন্যূনতম পাননি তিনি।

বার্স জিতেছে নুন্যতম ব্যবধানে। তবু সমর্থকরা আফসোস করতে পারেন ৩৬ মিনিটে কুতিনহো গোলবঞ্চিত হওয়ায়। ডি-বক্স থেকে অরক্ষিত ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার বুলেট গতির যে শটটা নিয়েছিলেন সেটা দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ম্যানইউ গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়া। ম্যাচের বাকি সময় গোলপোস্টের নিচে ভালোই দ্যুতি ছড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু আত্মঘাতী গোলটাই শেষ অবধি কাল হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য।

তাতে স্বস্তির একটা নিঃশ্বাসই ফেলল বার্সেলোনা। পঞ্চমবারের চেষ্টায় ওল্ড ট্রাফোর্ড জয় হলো তাদের। আগের চারবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে খেলতে এসে দুবার হেরেছে তারা; ড্র করেছে অন্য দুটিতে।

sheikh mujib 2020