advertisement
আপনি দেখছেন

ভিসেন্তে কালডেরনে প্রথম লেগে ১-০ গোলে হার। ওই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দ্বিতীয় লেগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল লিভারপুল। এ যাত্রায় দুই গোল এগিয়ে থেকেও ভক্তদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারল না অল রেডরা। শেষের নাটকীয়তায় ঘরের মাঠে ফিরতি লেগের ম্যাচটাও হেরে বসল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

marcos llorente 2020

বুধবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে টিকে থাকার লড়াইয়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ৩-২ গোলে হেরে গেছে লিভারপুল। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ গোলে জিতে শেষ আটে উঠে গেল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। দর্শকপূর্ণ গ্যালারি পেয়েও শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পারল না ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। দুই লেগে দুই হারে বিদায় নিতে হলো চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে।

অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামে ম্যাচটা থ্রিলার উপহার দিয়েছে প্রথম দেড় ঘণ্টায়। প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিটে জর্জিনহো ভিনালডামের হেড থেকে করা গোলে লিড নেয় লিভারপুল। সমতায় ফিরতে মরিয়া অ্যাটলেটিকো সর্বস্ব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাগতিকদের বিপদসীমায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের খেলায় গোলই পায়নি মাদ্রিদ জায়ান্টরা। দুই লেগ মিলিয়ে ম্যাচ তখন ১-১ গোলে সমতায়।

শেষ ষোলোর দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে। সেখানেই চূড়ান্ত নাটক। ৯৪ মিনিটে রবার্তো ফিরমিনোর গোলে স্কোর লাইন ২-০ করে লিভারপুল। এরপরই অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের পাল্টা আঘাত। তিন মিনিট পরই অল রেডদের একটি গোল ফিরিয়ে দেয় অতিথিরা। গোল করেন মার্কোস লরেন্তে। ১০৫ মিনিটে ফের কেঁপে ওঠে লিভারপুলের জাল।

দ্বিতীয় গোলটিও করলেন লরেন্তে। ম্যাচ তখন ২-২ গোলে সমতা। কিন্তু দুই লেগের হিসেবে ৩-২ গোলে এগিয়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। এই অবস্থায় লিভারপুলের ফেরাটা প্রায় অসম্ভবই ছিল। টিকে থাকতে স্বাগতিকদের করতে হতো দুই গোল। লিভারপুল পারেনি একটিও। উল্টো ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তৃতীয় গোল হজম করে বসে চ্যাম্পিয়নরা।

mohamed salah liverpool 2019 20

লিভারপুলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছেন আলভারো মোরাটা। তাতেই নিশ্চিত হয়ে গেল সালাহ-ফন ডাইকদের হার ও বিদায় দুটোই। ঘরের মাঠে টানা ৪৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারল লিভারপুল। সময়ের হিসেবে তিন বছর পর অ্যানফিল্ডে হারল তারা। তবে ইউরোপের মঞ্চে ছয় বছর পর! জয় নিয়েই ম্যাচটা শেষ করতে পারতো স্বাগতিকরা। কিন্তু অ্যাটলেটিকো গোলরক্ষক জন ওবলাক এদিন গোলপোস্টের নীচে অতিমানব হয়ে উঠেছিলেন।

ওবলাকের দারুণ নৈপুণ্যে নির্ধারিত সময়ে একটির বেশি গোল পায়নি লিভারপুল। দুই লেগ মিলিয়ে লড়াই ১-১ সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়িয়েছে অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে। এ জন্য স্বাগতিকরা নিজেদের দুর্ভাগ্যকেও দুষতে পারে। কারণ, শুধু অ্যাটলেটিকো গোলরক্ষকই নয়, ঘরের মাঠের গোলপোস্টও এদিন তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছিল! ৬৬ মিনিটে অ্যান্ড্রু রবার্টসনের হেড ফিরে আসে অ্যাটলেটিকোর ক্রসবারে লেগে। ৯৪ মিনিটে ফিরমিনোরও কপাল পোড়ে গোলপোস্টের কারণে!

ম্যাচটা শেষটা হতে পারতো নির্ধারিত সময়েই। কিন্তু এবার অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ গোলবঞ্চিত হয়। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে লিভারপুলের জালে বল জড়ান সাউল নিগেস। কিন্তু অ্যাটলেটিকো তারকা অফসাইডে থাকায় গোলটা বাতিল হয়ে যায়। গোলটা পেলে ম্যাচটা ১-১ গোলে ড্র হতো। প্রথম লেগের অগ্রগামিতায় শেষ আটে উঠে যেতে পারতো স্প্যানিশ ক্লাবটি। অ্যাটলেটিকো ঠিকই পরের রাউন্ডে উঠেছে, তবে অনেক নাটকীয়তার পর!