advertisement
আপনি দেখছেন

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। সাত মাস আগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে স্বপ্নের রুপালি ট্রফিটা হাতছাড়া করেছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পে খেলেছেন নিজের ছায়া হয়ে। নেইমারও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। মাশুল দিতে হয়েছে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে হেরে। কয়েক মাসের ব্যবধানে স্বপ্নপূরণে ফের বাধা বায়ার্ন মিউনিখ।

mbappe neymar bayern psg champions league quarter finals

এবার আর নিষ্প্রভ নয়; নেইমার-এমবাপ্পে দুজনই জ্বলে উঠলেন এক সঙ্গে। এলিয়েঞ্জ এরিনায় এই দুজনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর দাঁড়িয়ে থ্রিলার জয় তুলে নিল পিএসজি। বুধবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। নাটকীয় এই জয়ে প্রতিশোধ ও সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল পিএসজি।

আগামী বুধবার ঘরের মাঠ পার্ক ডু প্রিন্সেসে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন হার ঠেকালেই সেমিফাইনালে উঠে যাবে মারিসিও পচেত্তিনোর দল। বায়ার্ন মিউনিখের জন্য আরেক দুঃসংবাদ। মহাগুরুত্বপূর্ণ ওই ম্যাচেও দলের সেরা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কিকে পাবে না বাভারিয়ানরা। চোটের কারণে কালকের ম্যাচেও খেলতে পারেননি পোলিশ সেনসেশন।

ম্যাচে ছিলেন না সার্জি জিন্যাব্রি-ও। এই দুজনের অভাবটা অবশ্য খুব একটা টের পায়নি বায়ার্ন মিউনিখ। নেইমার-এমবাপ্পে বিশ্বসেরা জুটির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গোল করেছেন বাভারিয়ান ফরওয়ার্ডরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি তারা। ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন পিএসজি মানিকজোড়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। সঙ্গে আলো ছড়ালেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া ও মার্কুইনহস।

thomas muller bayern psg 2020 21

নেইমার ও ডি মারিয়া গোল করেননি, নেপথ্য নায়ক হিসেবে পারফর্ম করেছেন। পিএসজির প্রথম দুই গোলে সহায়তা করেছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। আর আর্জেন্টাইন উইঙ্গার অবদান রাখলেন ম্যাচ নির্ধারক তথা পিএসজির তৃতীয় গোলে। ম্যাচ শুরুর ও শেষ গোলটি করে নায়ক বনে গেলেন এমবাপ্পে।

বলতে গেলে ম্যাচটা ঠিকঠাক শুরুই হয়নি। হয়তো আরাম করে টিভি পর্দার সামনে বসতেও পারেননি দর্শকরা। এরই মধ্যে গোলের বাঁশি! তিন মিনিটেই নেইমারের কাছ থেকে বল পেয়ে বায়ার্ন মিউনিখের জালে বল জড়ান এমবাপ্পে। ম্যাচের প্রথম গোলটা পেতে পারতো বাভারিয়ানরা। কিন্তু শুরুতেই চুপো মোটিংয়ের হেড ফিরে আসে পিএসজির ক্রসবারে লেগে। প্রতি-আক্রমণে পরের মিনিটেই পিএসজির গোল!

গত বছর ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ার ভুগিয়েছিল পিএসজিকে। অথচ কাল তার ভুলেই প্রথম গোল হজম করে বাভারিয়ানরা। এমবাপ্পের গতিময় শট জার্মান গোলরক্ষকের ঊরুতে লেগে বল জড়িয়ে যায় জালে। ১২ মিনিটে আরেকবার কেঁপে ওঠে বায়ার্নের জাল। যদিও জুলিয়ান ড্র্যাক্সলারের গোলটা বাতিল হয়ে যায় এমবাপ্পে অফসাইডের ফাঁদে পড়ায়।

pochettino psg 2020 21

পিএসজির সেই দুঃখ ঘুচে গেছে ২৮ মিনিটে। নেইমারের দারুণ এক ক্রস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তার স্বদেশি মার্কুইনহস। ম্যাচটা ওখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু দলটার নাম বায়ার্ন মিউনিখ, দুই গোলে পিছিয়ে থেকে বহু ম্যাচে জয়ের নজির আছে তাদের। এই ম্যাচেও তেমন কিছুর সম্ভাবনা জাগিয়েছিল তারা। ৩৭ মিনিটে পিএসজিকে একটি গোলের শোধ দেন তাদেরই সাবেক ফরওয়ার্ড চুপো মোটিং।

গত বছরের অক্টোবরে পিএসজি থেকে বায়ার্নে নাম লেখান ক্যামেরুনিয়ান এই তারকা। গোলের পর পিএসজি বুঝল দুধ-কলা দিয়ে কালশাপ পুষেছিল তারা! ৬০ মিনিটে সমতায় ফেরে বায়ার্ন মিউনিখ। জসুয়া কিমিখের ফ্রি-কিকে মাথা ছুঁয়ে স্কোর লাইন ২-২ করেন জার্মান স্ট্রাইকার টমাস মুলার। স্বাগতিকদের সমতায় ফেরার আনন্দ শেষ হয়ে গেছে আট মিনিটের মধ্যেই।

আবারো পিএসজির গোল। ডাবলস পূরণ করলেন এমবাপ্পে। তার গোলের জোগানদাতা ডি মারিয়া। হার ঠেকাতে এরপর মুহুর্মুহু আক্রমণ চালায় বাভারিয়ানরা। কিন্তু ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি তারা। তবে ম্যাচজুড়ে পিএসজির রক্ষণদুর্গ ও গোলরক্ষক কেইলার নাভাসের অগ্নিপরীক্ষা নিয়েছে বায়ার্ন। তবে আসল পরীক্ষাটা দিতে হয়েছে ন্যুয়ারকে। কয়েকটা গোল বাঁচালেও শেষ পর্যন্ত নেইমার-এমবাপ্পে জুটির সামনে দাঁড়াতে পারলেন না তিনি।