advertisement
আপনি দেখছেন

গত ইউরোর পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। সুইডেনের সর্বকালের সেরা ফুটবলারের আচমকা এই সিদ্ধান্তে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। তাকে ছাড়াই রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছিল সুইডিসরা। কিন্তু ২০১৮ বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে তার ফেরার গুঞ্জন ছড়ায় গণমাধ্যমে। যদিও তা গুঞ্জন হিসেবেই থেকে যায়। ইব্রাকে ছাড়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টাার ফাইনালে উঠে সবাইকে চমকে দেয় সুইডেন। দলের সেরা তারকাকে ছাড়া এবার ইউরোর মূলপর্বেও জায়গা করে নিয়েছে সুইডেন।

euro 2020 suiden

আবার শুরু হয় পুরনো গুঞ্জন। এবারের গুঞ্জন সত্যি। অবসর ভেঙে সত্যিই আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন ইব্রা। তাতে বাদ সাধে ইনজুরি। এসি মিলানের সুদিন ফেরাতে গিয়ে নিজের স্বপ্নের সমাধী করে ফেলেন এই ফুটবল যাযাবর। চোট নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। যা দলের জন্য বড়সড় একটা ধাক্কা হয়েই এসেছে। অনেকের মতে ইব্রা থাকলে এবারের ইউরোর অন্যতম ফেভারিট হতে পারতো সুইডেন। সেটা হচ্ছে না। আর ইব্রা না চ্যালেঞ্জটা বেড়ে গেল দলের। তার অনুপস্থিতিতে ইউরো কিছুটা হলেও রঙ হারিয়েছে।

প্রধান কোচ - জানে অ্যান্ডারসন: ফুটবলে হাতেখড়ি হয়েছিল বটে। কিন্তু পেশাদার ফুটবলার হয়ে ওঠা হয়নি। বলা হচ্ছে জানে অ্যান্ডারসনের কথা। খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারা জানে অ্যান্ডারসন বেছে নেন কোচিং ক্যারিয়ার। এই ভূমিায় বেশ সফল তিনি। বর্তমানে সুইডেন জাতীয় দল খেলছে তার অধীনেই। ২০১৬ সালে এরিক হামরেনের উত্তরসূরি হিসেবে নিয়োগ পান ঠান্ডা মাথার এই কোচ। শুধু কোচ হিসেবে নন, অ্যান্ডারসন মানুষ হিসেবেও চমৎকার।

২০১৫ সালে নরকোপিংকে সুইডিস লিগ জেতান অ্যান্ডারসন। পুরস্কার হিসেবে জাতীয় দলে নিয়োগ পান তিনি। সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করেন। মূলপর্ব তো বটেই, সুইডেনকে নিয়ে গেছেন রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই হিসেবে এবারের ইউরোতেও তাদের ঘিরে আশা ছিল। কিন্তু স্বপ্নের পালে ধাক্কা লাগে স্ট্রাইকার ইব্রা ইনজুরিতে পড়ায়। আক্রমণের ধার না হয় কমেছে। কিন্তু সুইডেনের মূল শক্তি তাদের রক্ষণবিভাগ। সুইডিশদের প্রাচীর ভেদ করা কঠিন থেকে কঠিনতর। রক্ষণের পাশাপাশি দলটা প্রতি আক্রমণে বিশ্বের অন্যতম সেরা।

প্রধান অস্ত্র - এমিল ফোর্সবার্গ: ২০১৫ সালে মালমো থেকে জার্মান ক্লাব লাইপজিগে যোগ দেন ফোর্সবার্গ। এখানেই অর্ধ যুগ ধরে আলো ছড়াচ্ছেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। নতুন ক্লাব হিসেবে লাইপজিগের ইউরোপিয়ান ফুটবলে উঠে দাঁড়াতে ফোর্সবার্গের ভূমিকা অনেক। তার দারুণ পারফরম্যান্সে সদ্য বিদায়ী জার্মান বুন্দেসলিগায় রানার্সআপ হয়েছে লাইপজিগ।

ক্লাব পর্যায়ের দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্স প্রয়াত দাদা লেনার্টকে উৎসর্গ করেছেন ফোর্সবার্গ। লেনার্ট নিজেও একজন ফুটবলার ছিলেন। গত বছরের সেপেম্বরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। ফোর্সবার্গের বড় ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে তার অনুপ্রেরণা ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফোর্সবার্গের গোলেই সুইজারল্যান্ডকে হারিয়েছিল সুইডেন। ইব্রা না থাকায় এবারের ইউরোতে তিনিই দলের অন্যতম ভরসা।

তরুণ তুর্কি - ডিজান কুলুসেভস্কি: ইব্রাহিমোভিচের জাতীয় দলে ফেরার খবরটা কুলুসেভস্কির জন্য বড় একটা ধাক্কা। তাকে বাদ দেওয়ার কারণে প্রধান কোচ অ্যান্ডারসনকে যথেষ্ঠ সমালোচনা শুনতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইব্রা ছিটকে গেছেন, কুলুসেভস্কির স্বপ্নপূরণে আর কোনো বাধা থাকল না। তরুণদের মধ্যে এবারের ইউরোতে আলাদাভাবে নজর কাড়তে পারেন ২১ বছর বয়সী এই তুর্কি। রাইট উইং কিংবা দ্বিতীয় স্ট্রাইকার হিসেবে খেলে থাকেন কুলুসেভস্কি। গত জানুয়ারিতে ৩৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে তাকে দলে টেনেছে জুভেন্টাস। ছয় মাসেই তুরিনের বুড়িদের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তিনি। কুলুসেভস্কির বিশেষ গুণ হচ্ছে, ঝড়ো গতি, বুলেট শট এবং দ্রুত কায়কর সিদ্ধান্ত নিতে পারাটা।

গ্রুপপর্ব: ‘ই’ গ্রুপ এবারের দুটি মৃত্যুকূপের একটি। যেখানে স্পেনের সঙ্গী তিনবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, রবার্ট লেভানডফস্কির পোল্যান্ড ও চমক জাগানো স্লোভাকিয়া। তবে অকুতোভয় সুইডেন। গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী স্পেনকে তাদেরই মাঠে গোলশূন্য ব্যবধানে রুখে দিয়েছে তারা। মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে পয়েন্ট পাওয়া অ্যান্ডারসনের দলের জন্য বড় একটা স্বস্তি। এখন পোল্যান্ড ও স্লোভাকিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ কিছু করতে মরিয়া সুইডেন।

সম্ভাব্য একাদশ: গোলরক্ষক: ওলসেন; ডিফেন্ডার: লাস্টিগ, লিন্ডেলফ, হেলান্ডার, অগাস্টিনসন; মিডফিল্ডার: ক্লাসন, ওলসন, লারসন, ফোর্সবার্গ; ফরওয়ার্ড: কুলুসেভস্কি, ইসাক।
সেরা সাফল্য: সেমিফাইনাল (১৯৯২)

ফিফা র্যাঙ্কিং: ১৮

সুইডেন ম্যাচসূচি:

১৪ জুন: স্পেন ০-০ সুইডেন (সেভিয়া)
১৮ জুন: সুইডেন-স্লোভাকিয়া (সেন্ট পিটার্সবার্গ)
২৩ জুন: সুইডেন-পোল্যান্ড (সেন্ট পিটার্সবার্গ)