advertisement
আপনি দেখছেন

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক। তবে এই মহামারি দমাতে পারেনি খেলাধুলা। স্বাস্থ্যবিধি এবং নিয়মকানুন মেনেই খেলোয়াড়রা মাঠে নামছেন। কিন্তু জীবন যেখানে মূখ্য সেখানে খেলাধুলা গৌণ ব্যাপার। সেটা আরেকবার মনে করিয়ে দিল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সবশেষ দ্বৈরথ।

argentina celebrating a goal against venezuelaআর্জেন্টিনা দল

এ মাসের শুরুর দিকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ল্যাটিন জায়ান্ট দল দুটি। কিন্তু ম্যাচটা ঠিকঠাক শুরুর আগেই বন্ধ হয়ে যায়। স্থগিত করা হয় ম্যাচ। আর্জেন্টিনার চার ফুটবলারকে নিয়ে শুরু হয় ঝামেলা। কোয়ারেন্টাইন থেকে বেরিয়ে এসে ব্রাজিলের স্বাস্থ্যবিধি ভাঙেন তারা।

তিনজন তো ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠেও নেমেছিলেন। একজন ছিলেন গ্যালারিতে। চারজনকে তুলে নিতে মাঠে হাজির হন প্রশাসন ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। নাটকীয় ওই পরিস্থিতিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পুরো দল নিয়ে আর্জেন্টিনায় ফিরে যান মেসি অ্যান্ড কোং। শুরু হয় কাদা ছোড়াছুড়ি।

brazil vs argentina 2021স্বাস্থ্যবিধি ভাঙায় বাতিল হয়ে যায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সবশেষ ম্যাচ

আর্জেন্টিনা দাবি করে, ম্যাচের আগে নির্দিষ্ট ফুটবলারদের নিয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি ব্রাজিল। যদিও বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। ম্যাচ শুরুর এক ঘণ্টা আগেই আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের স্বাস্থ্যবিধি ভাঙার কথা জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রশ্ন হলো, যদি আর্জেন্টিনাকে কোনো নির্দেশনা না-ই দেওয়া হয় তাহলে রয়টার্স খবরটি পেল কোথায়?

ওই চারজন ফুটবলার অবশ্য শুরু থেকে দলের সঙ্গে ছিলেন না। যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি ব্রাজিলে এসেছেন। তাদেরকে দশ দিনের কোয়ারেন্টাইনে পাঠায় স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যদিও এর তোয়াক্কা করেননি তারা। এরপর অবশ্য চারজনকেই দলের বাইরে রেখে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পরবর্তী ম্যাচ খেলে আর্জেন্টিনা।

otamendi acuna argentina brazil 2021মাঠে ঢুকে পড়েন ব্রাজিলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও চলে এসেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সূচি। আগামী ৭ অক্টোবর প্যারাগুয়ে, ১১ অক্টোবর উরুগুয়ে এবং ১৪ অক্টোবর পেরুর মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ তিনটির জন্য সোমবার ৩০ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি।

ঘোষিত দলে রাখা হয়েছে বিতর্কিত চারজনের তিনজনকে- এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, জিওভানি লো সোলসো ও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। বিস্ময়কর হচ্ছে, ইনজুরিতে থাকা সত্ত্বেও দলে রাখা হয়েছে পাওলো দিবালাকে। কিন্তু আলোচনায় তিনি নন, ওই ত্রয়ীকে নিয়ে আবার শুরু হয়েছে আশঙ্কা। কারণ তিনজনই খেলেন ইংল্যান্ডে। যে দেশটি আবার ল্যাটিন দেশগুলোর লাল তালিকাভুক্ত।

ঝামেলামুক্তভাবে বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে চাইলে এখনই তাদের দেশে ফিরে থাকতে হবে কোয়ারেন্টাইনে। ওদিকে আবার এই ত্রয়ীকে ইংলিশ ক্লাবগুলো ছাড়বে কিনা, সেটাও বড় প্রশ্ন। সবমিলিয়ে ঘোষিত দল নিয়ে ভালোই বিপাকে পড়েছে আর্জেন্টিনা। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার এই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায় সেটাই দেখার অপেক্ষা।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আট ম্যাচে শতভাগ জয়ের নজির ধরে রেখে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলের শীর্ষে আছে ব্রাজিল। সমান ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে মেসির আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনা দল

গোলরক্ষক: ফ্রাঙ্কো আরমানি, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, হুয়ান মুস্যো, এস্টেবান আন্দ্রাদা।

ডিফেন্ডার: গঞ্জালো মন্টিয়েল, নউল মোলিনা, হুয়ান ফয়েথ, লুকাস মার্টিনেজ কুয়ার্তা, হেরমান পেস্যেইয়া, নিকোলাস ওটামেন্ডি, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো।

মিডফিল্ডার: মার্কোস আকুনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, গিদো রদ্রিগেজ, নিকোলাস ডোমিঙ্গেস, রদ্রিগো দো পল, এজেকুয়েল পালাসিওস, জিওভান্নি লো সেলসো, আলেক্সান্দ্রো গোমেজ, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া।

ফরওয়ার্ড: লিওনেল মেসি, নিকোলাস গঞ্জালেস, হোয়াকিন কোররেয়া, লাওতারো মার্টিনেজ, পাওলো দিবালা, হুলিয়ান আলভারেস, অ্যাঙ্গেল কোররেয়া, লুকাস অ্যালারিও।