advertisement
আপনি দেখছেন

নতুন মৌসুমে দারুণ সূচনা করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু হঠাৎ করেই পথ হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। লস ব্ল্যাঙ্কোসরা জয় পাচ্ছে না টানা তিন ম্যাচ ধরে। স্প্যানিশ লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে ড্রয়ের পর এস্পানিয়লের মাঠে হার। এর মাঝে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে শেরিফ তিরাসপোলের কাছে হেরেছে।

real madrid logo 2রিয়াল মাদ্রিদের লোগো

সবমিলিয়ে আচমকা বিপর্যয় নেমে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে। দুই ম্যাচেই হার ২-১ গোলে। দারুণ ছন্দে থাকা রিয়ালের হঠাৎ কী হলো? নেপথ্য কারণ আছে কয়েকটি। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফিনিশিং ঘাটতি। ক্লাবের এই মৌসুমেও গোলের জন্য ভরসা রাখতে হয় কেবল করিম বেনজেমা ওপর। লা লিগার চলতি মৌসুমে আট ম্যাচ খেলে নয় গোল করেছেন ফরাসি স্ট্রাইকার।

বেনজেমা গোল করেছেন শেরিফ ম্যাচেও। তবু হার ঠেকানো যায়নি। বরং রক্ষণ দুর্বলতায় শেষ দিকে দ্বিতীয় গোল হজম করে হেরে যায় রিয়াল। মাদ্রিদ জায়ান্টদের স্বরূপে ফিরতে হলে ফিনিশিং দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা খুব জরুরি। বেনজেমার মতো স্কোরার দরকার আনচেলত্তির দলের। সবশেষ তিনটি ম্যাচেই এই ঘাটতিটা ভালোভাবেই চোখে পড়েছে ফুটবল বিশ্লেষকদের।

ancelotti real madridআনচেলত্তি

রিয়াল ফরওয়ার্ডদের ব্যর্থতা তো আছেই। এর সঙ্গ যোগ হয়েছে নড়বড়ে রক্ষণভাগ। এই মৌসুমের শুরু থেকেই রিয়াল উদ্বেগজনক হারে গোল হজম করছে। তাতে করে সার্জিও রামোসের শূন্যতা চোখে পড়ছে। স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এই মৌসুমে রিয়াল ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন। তার জায়গায় এসেছেন ডেভিড আলাবা। তবে আলাবার পজিশন আলাদা।

রিয়ালে অবশ্য অস্ট্রিয়ান সেনসেশন খুব একটা খারাপ করছেন না। কিন্তু রক্ষণ সামলানোর কাজ ফেলে প্রায়ই তাকে আক্রমণে উঠতে দেখা যায়। ওই সময়টাতে প্রতি-আক্রমণে গোল হজম করছে রিয়াল। কারণ আলাবা আক্রমণে উঠে গেলে রক্ষণ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অন্যরা। তাকে মূলত সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে রেখেছেন রিয়াল কোচ আনচেলত্তি।

কিন্তু এস্পানিয়ল ম্যাচে কয়েকবারই নিজের পজিশন ছেড়ে আলাবাকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। সেন্ট্রাল ব্যাক ছেড়ে বারবার লেফট-ব্যাকে চলে এসেছেন আলাবা। ওই সুযোগটা নিয়েছে স্বাগতিক দল। আলাবার আর কী দোষ! তিনি তো লেফট-ব্যাক পজিশনেরই ফুটবলার। ঝামেলা বেঁধেছে রিয়ালের সব ফুল-ব্যাক ইনজুরিতে থাকায়। এ কারণেই আলাবার পজিশন বদলান আনচেলত্তি।

তাতে আপত্তি না করলেও মাঠে নতুন পজিশনে নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারছেন না আলাবা। আলাবার পজিশনে মিগুয়েল গুতিরেজকে খেলান ইতালিয়ান কোচ। কিন্তু দুজনের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব দেখা গেছে এস্পানিয়ল ম্যাচে। রক্ষণ নিয়ে এই ঝামেলার কারণে শেরিফ ও এস্পানিয়ল ম্যাচে কয়েকবার খেলার ছকে পরিবর্তন আনেন আনচেলত্তি। তাতে কাজ হয়নি। বরং হিতে বিপরীত হয়েছে রিয়ালের জন্য।

রিয়াল ছন্দ হারানোর আরেকটা কারণ মধ্যমাঠ। অথচ রিয়ালে খেলছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা তিন মিডফিল্ডার ইডেন হ্যাজার্ড, টনি ক্রুস ও লুকা মডরিচ। প্রথমজন দু-একবার ঝলক দেখালেও চেনারূপে ফিরতে পারছেন না। ক্রুস লম্বা সময় ধরে ইনজুরি নিয়ে খেলেছেন, যা সাম্প্রতিককালে প্রকাশ করেছেন। তার শতভাগ ফিটনেস নিয়েও রয়েছে সংশয়।

মডরিচ নিজের কাজটা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তার একার পক্ষে কতটুকুইবা করার আছে। একদিকে ফরওয়ার্ডদের ব্যর্থতা অন্যদিকে ডিফেন্ডারদের নড়বড়ে অবস্থা। গত তিন ম্যাচের এই অবস্থা এবং ম্যাচগুলোর ভিডিও নিয়ে শিষ্যদের সঙ্গে বসেছেন আনচেলত্তি। ভুলগুলো চিহ্নিত করে শিগগিরই ঘুরে দাঁড়ানোর আশা তাদের। পরের ম্যাচে জন্য ১৮ দিনের লম্বা সময় পাচ্ছে রিয়াল।

কারণ সামনে আন্তর্জাতিক বিরতি আসছে। ক্লাব ছেড়ে জাতীয় দলে যোগ দেবেন ফুটবলাররা। রিয়ালে খেলা ল্যাটিন আমেরিকান ফুটবলাররা ১৭ অক্টোবরের আগে দলে ফিরতে পারবেন না। ১৯ অক্টোবর মাঠে ফিরবে রিয়াল। সেদিন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে শাখতার দানেৎস্কর মুখোমুখি হবে আনচেলত্তির দল। ওই ম্যাচের আগেই সব দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে রিয়ালকে।

রিয়াল মাদ্রিদের চেয়েও অবশ্য বাজে অবস্থা বার্সেলোনার। লা লিগায় পয়েন্ট তালিকার নয় নম্বরে নেমে গেছে কাতালানরা। সাত ম্যাচে ১২ পয়েন্ট কাতালানদের। রিয়াল অবশ্য শীর্ষে আছে, কিন্তু স্বস্তিতে নেই। কারণ তাদের সমান পয়েন্ট নিয়ে কাঁধে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল সোসিয়েদাদ। আট ম্যাচে তিন দলেরই সংগ্রহ সমান ১৭ পয়েন্ট। ব্যবধান কেবল গোলের।