advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 10 মিনিট আগে

যে বয়সে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা ও বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা সে বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হতে হয় তাকে। তবে বাল্যবিয়ের বলি হতে চায়নি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটি। পালিয়ে গেল বিয়ের আসর থেকে। বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই মেয়েটিই দক্ষিণ এশিয়ান (এসএ) গেমসে বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছে তিনটি স্বর্ণ পদক।

gold woner tabassum ete১৩তম দক্ষিণ এশিয়ান (এসএ) গেমসে আর্চারিতে ৩টি স্বর্ণ পদক জয়ী চুয়াডাঙ্গার মেয়ে তাবাসসুম ইতি

বলা হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার মেয়ে তাবাসসুম ইতির কথা। ১৩তম এশিয়ান গেমসে আর্চারিতে যার হাত ধরে ৩টি স্বর্ণ পদক পেয়েছে বাংলাদেশ। নেপালের পোখরাতে চলা এসএ গেমসে আর্চারিতে দলীয়, মিশ্র ও ব্যক্তিগত ইভেন্টে তিনটি স্বর্ণ জয় করে ইতি।

বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে তখন চুয়াডাঙ্গায় আর্চারির প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিল ইতি। স্থানীয় এক কোচের সহযোগিতায় তীর-ধনুকের প্রথম পরীক্ষায় উতরেও যায় সে। বদলে যেতে থাকে তার জীবনের গল্প।

চুয়াডাঙ্গা শহরের বেলগাছী মুসলিমপাড়া এলাকার দরিদ্র হোটেল শ্রমিক ইবাদত আলীর মেয়ে তাবাসসুম ইতি। তার মায়ের নাম আলেয়া খাতুন। মেয়ের এমন সাফল্যে দারুণভাবে খুঁশি তার পরিবার। মেয়ের উত্তরোত্তর সাফল্যে দেশবাসীর কাছে দোয়াও চেয়েছেন তারা।

ইতির বাবা ইবাদত আলী মেয়ের সাফল্যের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, ‘অভাবের কারণে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় তার বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু মেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে এক অভিনব প্রতিবাদ জানিয়ে আমাদের চোখ খুলে দিয়েছিল।’

বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় দু:খ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার মতো কোন বাবা যেন তার সন্তানদের বাল্যবিয়ে না দেয়।’

ইতির মা আলেয়া খাতুন দেশের জন্য মেয়ের স্বর্ণ জেতার খবরে আনন্দে আত্মহারা। তিনি মেয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

ete motherইতির মা আলেয়া খাতুন

ছোট বেলা থেকেই ক্রিড়াক্ষেত্রে ইতির দারুণ প্রতিভা ছিল। পরিবারের অস্বচ্ছলতার কারণে খেলাধুলাতে মত ছিল না বাবা-মার। তারপরও দমে যায়নি ইতি।

আর্চারির প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে ‘নিশানাভেদটা’ সেদিন ভালো করেছিল বলে কোচের মাধ্যমেই ইতি চলে আসে জাতীয় পর্যায়ে। প্রতিভা বুঝতে পেরেই তাকে দলে নেন তীরন্দাজ সংসদ। সেখানেই তার আর্চারির পাঠ। সেখান থেকেই আজ সে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা আর্চারদের একজন।

এদিকে ইতির এমন গৌরবগাঁধা সাফল্যে চুয়াডাঙ্গাবাসী ভাসছে এক নতুন আনন্দে। ইতির স্কুল শিক্ষকসহ সহপাঠীদের মধ্যেও চলছে ইতি বন্দনা।

চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক শামসুন্নাহার শিলা (ইতির স্কুল) বলেন, আমার ছাত্রীর এমন বিস্ময়কর স্বর্ণজয়ের খবরে আমরা দারুণ খুশি। সে এখন শুধু চুয়াডাঙ্গার নয় দেশের গর্ব।

চুয়াডাঙ্গার মেয়ে ইতির স্বর্ণ শিখরে পৌঁছানোতে গর্বিত জেলার ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরাও। চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাঈম হাসান জোয়ার্দ্দার বলেন, ইতির এই সাফল্যের খবরে জেলার অন্যান্য নারী আর্চারিদের মনোবল আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে দেশের আর্চারিতেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে মত তার।

বাংলাদেশ আর্চারি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা আর্চারির প্রশিক্ষণ কোচ সোহেল আকরাম বলেন, ‘আর্চারির প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্পেই আমি ইতির ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা বুঝতে পেরেছিলাম। এজন্য তাকে একটু বেশিই কেয়ার করতাম। আমি নিশ্চিত ছিলাম এ মেয়ে একদিন আমাদের সকলের মুখ উজ্জ্বল করবে। সেটা ও করিয়েও দেখিয়েছে।’

জেলার ক্রীড়া সংগঠক মাহবুল ইসলাম সেলিম বলেন, আর্চারিতে ইতির বিস্ময়কর সাফল্য আগামীতে চুয়াডাঙ্গার ক্রীড়াঙ্গণে বড় ভূমিকা রাখবে। ইউএনবি।

sheikh mujib 2020