advertisement
আপনি দেখছেন

আরো একটি বছর নিক্ষিপ্ত হতে যাচ্ছে মহাকালের গর্ভে। ২০১৯ সালের শেষ দিকে এসে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব নিকেশ চলছে সমাজ সংস্কৃতির প্রতিটি অঙ্গনে। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনও এর বাইরে নয়। ধারাবাহিক প্রতিবেদনের এই পর্ব উপস্থাপন করা হয়েছে দেশের কয়েকটি ক্রীড়া ফেডারেশন নিয়ে।

bd archery flag

দাবার আলোয় আলোকিত ফাহাদ

অনেকটা সময় ফিদে মাস্টার হিসেবে বসেছিলেন ফাহাদ রহমান। এ বছর এশিয়ান জোনাল দাবায় সবাইকে চমক উপহার দিয়েছেন তিনি। জিতে নেন শিরোপা; হয়ে যান আন্তর্জাতিক মাস্টার। শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, দলীয়ভাবেও সফল ছিলেন ফাহাদ। এ বছর বাংলাদেশ পুলিশ দলের হয়ে লিগ জিতেছেন তিনি। যেখানে ফাহাদ খেলেছেন নিয়াজ মোর্শেদের নেতৃত্বে। এ বছর জাতীয় মহিলা দাবায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রানী হামিদ এবং ছেলেদের ইভেন্টে সেরা হয়েছেন নিয়াজ।

হকির হতাশার বছর

বরাবরের মতো এ বছরও হকির হতাশা কৃষ্ণগহ্বরে। অনেক আশা জাগালেও বছর শেষে নিরাশ হতে হয়েছে হকি খেলোয়াড়দের। এ বছর মাঠে গড়ায়নি প্রিমিয়ার লিগ। গত এপ্রিলে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক একেএম মুমিনুল হক সাঈদ আশা দেখালেও স্টিক আর বল টার্ফে গড়াতে পারেননি। বছরটা কেটেছে মেয়েদের হকি আর অনূর্ধ্ব-২১ হকি নিয়ে। জাতীয় দলের পুরুষ খেলোয়াড়রা উল্লেখযোগ্য বলতে এশিয়ান ইনডোর হকি খেলেছেন।

আর্চারিতে সোনারাঙা বছর

এ বছর বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে আর্চারি থেকে। বছরের শেষ দিকে এসএ গেমসে বাংলাদেশ আর্চারির সাফল্য ছাড়িয়ে গেছে স্বপ্নের সীমা। আর্চারির দশ ইভেন্টের সবকটিতেই স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ। লাল-সুবজের প্রতিনিধিরা ইতিহাস গড়তে পারার জন্য ভারত একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য। এই ইভেন্টে অংশ নেয়নি কোনো ভারতীয় তিরন্দাজ।

বাংলাদেশের আর্চারির বদলে যাওয়ার নেপথ্য নায়ক মার্টিন ফ্রেডরিখ। জার্মান এই কোচ আসার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে ঈর্ষণীয় সাফল্য পাচ্ছে বাংলাদেশ। ফ্রেডরিখের তত্বাবধানে এশিয়ান আর্চারিতে সোনা জিতেছেন রোমান সানা। দেশের প্রথম তিরন্দাজ ও দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এ বছরই অলিম্পিকে সরাসরি অংশ নেওয়া নিশ্চিত করেন রোমান।

bd archery

সাঁতার-শ্যুটিংয়ে ভরাডুবি

এ বছর রীতিমতো ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশ সাঁতার ও শ্যুটিংয়ে। আশা জাগানো সত্ত্বেও এ বছর এসএ গেমসে কোনো স্বর্ণপদক জিততে পারেননি দেশের সাঁতারু এবং শ্যুটাররা। অথচ দুটি ফেডারেশনে সুযোগ-সুবিধার কোনো ঘাটতি ছিল না। তবু আন্তর্জাতিক কোনো ইভেন্টে বড় কোনো সাফল্য পাননি তারা। বরং সাঁতারে ঘটে গেছে আরেকটা অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

এক নারী সাঁতারুকে অমানবিক শাস্তি দেওয়ায় বাংলাদেশের চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন প্রধান কোচ তাকিও ইনোকি। জাপানে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বোমা ফাটিয়েছেন তিনি। সাঁতারের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিনার কাছে বাংলাদেশে সাঁতারুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ জানান তিনি।

ভারোত্তোলন-কারাতে-ফেন্সিতে সাফল্য

এই ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে নিজেদের ইতিহাসে সেরা সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। নেপালের ক্রীড়াযজ্ঞে ১৯টি স্বর্ণপদক জিতেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যেখানে নেতৃত্ব দিয়েছেন আর্চাররা। প্রত্যাশিতভাবেই স্বর্ণপদক পদক এসেছে ভারোত্তলন থেকে। স্বর্ণ জেতেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। এ ছাড়া কারাতে, অ্যাথলেটিক্স, ফেন্সি থেকেও শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি এসেছে। যদিও এসব ইভেন্ট থেকে স্বর্ণজয়ের খুব বেশি আশা ছিল না। অথচ তারাই মুখ উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশের।