advertisement
আপনি পড়ছেন

ক্ষমতায় এসেই বিশ্বের সাত মুসলিম প্রধান দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীদের ভিসা বন্ধের আদেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সাত দেশের তালিকায় রয়েছে ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন। এই নিষেধাজ্ঞা জারির পর ইরানি বংশোদ্ভুত এক শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। বিমান বন্দর থেকেই তাকে ফিরে যেতে হয়েছে।

Irani student not enter usa

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট ফর হিউমেন সাইন্সের হলিস্টিক হেলথ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী সারা ইয়ারজানি এর আগেও বহুবার যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করেছেন। তাই তিনি একরকম নিশ্চিন্তই ছিলেন যে তাকে কোন বাধার সম্মুখীন হতে হবে না। কিন্তু ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে ২৩ ঘণ্টা লস অ্যাঞ্জেলস বিমানবন্দরে আটক রাখার পর তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

গত সোমবার এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৫ বছরের সারা জানান, তিনি তার স্থায়ী ঠিকানা ভিয়েনায় ফিরে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, 'ছুটি কাটাতে আমি কানাডায় আমার বোনের কাছে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়া হয়ে শুক্রবার আমি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করি। আমাকে এভাবে আটকে দেয়া হবে তা আমি কল্পনাও করিনি। কারণ আমি যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী।'

তিনি জানান, এর আগে তিনি যখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন তখন সবাই তার সঙ্গে বেশ ভালো ব্যবহার করেছে। কিন্তু এবার বিমানবন্দরে তার পাসপোর্ট নিয়ে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এ সময় দুই নারী কর্মকর্তা তার পরনের শাল, গহনা ও মোবাইলফোন বাজেয়াপ্ত করে তাকে অাটকে রাখে। টানা চার ঘণ্টা তাকে জেরা করা হয়। অবশেষে তাকে একটি ফর্মে সই করতে বলা হয় যেখানে লেখা ছিল যে সারা স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করছে।

সারা বলেন, 'সেখানকার এক কর্মকর্তা আমাকে বলেন, তোমার সামনে দুটো পথ খোলা আছে। হয় তুমি এই ফর্মে সই করে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবে, নয়তো তোমাকে জোর করে বের করে দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আর এই দেশে প্রবেশ করতে পারবে না। এমন আতঙ্কের মুখে আমি সই করে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হই।'

তবে কর্মকর্তারা পরে সারার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যে, তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

সারা লস অ্যাঞ্জেলসে পৌঁছেছিলেন শুক্রবার রাত সাড়ে আটটায়। আর তাকে সেখান থেকে বের হতে হয়েছে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার ফ্লাইটে। এই দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা তাকে বিমানবন্দরেই কাটাতে হয়েছে।