advertisement
আপনি পড়ছেন

গত রিও অলিম্পিকে অংশ গ্রহণ করেই ইতিহাস গড়েছিলেন ইবতিহাজ মোহাম্মদ। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে প্রথম হিজাব পরে খেলতে নেমেছিলেন অলিম্পিক। শুধু অংশ গ্রহণের ইতিহাস গড়েই থামেননি। দলের হয়েও ইতিহাস গড়েছিলেন ইবতিহাজ। রিও অলিম্পিকের আগে কখনোই ফেন্সিং থেকে স্বর্ণ জিতেনি যুক্তরাষ্ট্র। রিওতে গিয়ে প্রথমবারের মতো দেশকে দলগত স্বর্ণ এনে দিয়েছেন ইবতিহাজ ও তার সতীর্থরা। কিন্তু ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবে এবার সেই ইবতিহাজকে হেনস্তার শিকার হতে হলো।

ibtihaj muhammad

মার্কিন মুসলিম এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখেছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। তার সম্পর্কে জানার পর এবং অলিম্পিক সরঞ্জামাদি থাকার পরও এমন হেনস্তার মুখোমুখি হয়েছে ইবতিহাজকে।

এক সাক্ষাতকারে অলেম্পিক খেলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হিজাবধারী মুসলিম নারী বলেন, 'আমি জানি না কেন (আটকে রাখা হয়েছিল)? আমি বলতে পারবো না সেখানে কি ঘটেছিল।’

ইবতিহাজ মোহাম্মদ যোগ করেছেন, ‘আমি জানি আমি মুসলমান। আমার একটি আরবি নাম আছে।’

মার্কিনি হওয়ার পরও এমন হেনস্তার মুখোমুখি হওয়াতে ক্ষেভ লুকাতে পারেননি ইবতিহাজ। ঘটনার বর্নণা দিয়ে তিনি বলেন ‘আমার সামনে মার্কিন কর্মকর্তা ছিল এবং আমার অলিম্পিক সরঞ্জামাদি ছিল। কিন্তু তারা (কাস্টমস) বোঝার চেষ্টা করেননি।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন মুসলমানরা। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে অলিম্পিক পদক জেতা একজনও রক্ষা পেলেন না এ থেকে।

দায়িত্ব নেওয়ার পরই এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। যার ফলে সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু সাত দেশের উল্লেখ হলেও নিষেধাজ্ঞা যেন পুরো মুসলিম বিশ্বের। যে কোন দেশের মুসলমানদেরই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ক’দিন আগে খবর পাওয়া যায়, ভারতের কাশ্মিরের দুই মুসলিম খেলোয়াড়কে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র কর্তপক্ষে। অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এমনটা হওয়ার খবর বেরিয়েছে।