advertisement
আপনি পড়ছেন

আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে ওয়াং কি হারিয়ে ফেলেছিলেন ঘরে ফেরার পথ, শত চেষ্টা করেও তা আর খুঁজে পাননি। চীনের সেনা সার্ভেয়র হওয়ায় পরিবার ছেড়ে দূরে থাকতে হতো তাঁকে। ভারতের সঙ্গে লাগোয়া সীমান্ত এলাকায় চীনা সেনাবাহিনীর হয়ে সার্ভেতে যাওয়ার আগে শেষ বার্তায় ওয়াং জেনেছিলেন, মা খুব অসুস্থ, একটিবার দেখতে চান তাঁকে। সেই জননী আজ বেঁচে না থাকলেও জন্মভূমির ডাকে সাড়া দিতে পারলেন অবশেষে।

wang qi china back 

বিবিসির এক প্রতিবেদনে ওয়াং কিংয়ের জীবন সংগ্রাম তুলে ধরার পর এক চীনা কূটনীতিক তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরপর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয়। গত শুক্রবার দীর্ঘ ৫০ বছর পর ওয়াং ছেলেকে নিয়ে ফিরে যান নিজ গ্রাম জিয়াংইয়াংয়ে। এর আগে দিল্লীর কর্মকর্তারা ওয়াং এবং তাঁর পরিবারকে দিল্লীর একটি শপিং মলে নিয়ে গিয়ে পুরো পরিবারের জন্য কেনাকাটা করে দেন। 

চীনের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন ওয়াং কি। আর এই দারিদ্রের ছায়া থেকে বেড়িয়ে আসতে ওয়াং পড়ালেখা করেছিলেন। চীনের সেনা সার্ভেয়র হিসেবে চাকরীও পেয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৬৩ সালে চীনের সঙ্গে ভারতের লাগোয়া সীমান্তে সার্ভেতে এসে তিনি ভুল করে ভারতের সীমান্তে প্রবেশ করেন। সেই থেকে শুরু ওয়াংয়ের নতুন যুদ্ধ।

wang with his family in india

দেশে ফেরার সব রকম চেষ্টাই তিনি করেছেন। কিন্তু এতে ভোগান্তি শুধু বেড়েছেই, সমাধান মেলেনি কোন। গ্রহণযোগ্য কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাঁকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন জেল হাজতে পার করতে হয়েছে সাত বছর। এরপর দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর, যুগ এমনি করে পেরিয়ে গেছে অর্ধ শতাব্দী।চীনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি তাঁকে, পাননি ভারতের নাগরিকত্বও।

১৯৬৯ সালে জেল থেকে মুক্ত হয়ে ওয়াং মধ্য প্রদেশের তিরোদি নামের এক গ্রামে থাকতে শুরু করেন। সেখানকার মানুষদের সঙ্গে এক সময় সখ্যতা গড়ে উঠে তার। ১৯৭৫ সালে লোকজন ‘জোর করে’ বিয়েও করিয়ে দেয় ওয়াংকে। তার স্ত্রীর নাম সুশিলা। এরপর ভিনদেশেই গড়ে ওঠে তাঁর পরিবার।

ওয়াং ভারতে তাঁর নতুন পরিবারকে রেখে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চীনেই রয়েছেন। স্ত্রী সুশীলা এখন মনে প্রাণে একটাই বিশ্বাস নিয়ে রয়েছেন, 'স্বামী তাঁর ফিরে আসবেনই আসবেন।'