advertisement
আপনি দেখছেন

গত সোমবার সকালে ভারতের নাগাল্যান্ডে মেদজিফেমা নামের একটি গ্রামে নির্মমভাবে গ্রামবাসীদের হাতে প্রাণ হারালো মহাবিপন্ন রাজকীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার। অথচ বনবিভাগের তথ্যমতে গত কয়েক দশকের মধ্যে এই এলাকায় কোন বাঘেরই অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

tiger killed

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিগত শুক্রবার থেকেই ডিমাপুর ফরেস্ট অফিস থেকে মাত্র ৩০ কিমি দূরে মেদজিফেমা নামক গ্রামে গত এক সপ্তাহ ধরে বাঘের আক্রমণে দুইটি শুয়োর এবং একটি গরু মারা গেলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা একটি বাঘিনীর অস্তিত্ব পায়। এ সময় তারা পুলিশ অথবা বন্যপ্রাণী রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষকে কোন খবর না দিয়ে গত সোমবার বাঘটিকে ভয় দেখিয়ে সেই অঞ্চল থেকে তাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামবাসীদের মধ্যে থেকে প্রায় ৭০ জন তরুণের প্রায় সবাই ১২ বোরের গাদা বন্দুক নিয়ে সোমবার সকালে গ্রাম পরিষদের সামনে একত্রিত হয়ে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে বাঘটিকে তাড়া করে। এসময় হতবিহ্বল বাঘিনীটি একজন তরুণকে থাবা দিয়ে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টার সময় বন্দুকধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে এবং বাঘিনীটি সেখানেই মারা যায়।

পরবর্তীতে বনবিভাগের কর্মকর্তা এবং পুলিশরা সেখানে বাঘের মৃতদেহটি উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয়রা বাঘের মৃতদেহটিকে তাদের গ্রামের বাহাদুরি এবং মর্যাদার প্রতীক দাবি করে তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কয়েক ঘন্টা তর্কবিতর্কের পরে গ্রামবাসীরা মৃতদেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যেতে দিতে রাজি হয়।

এ বিষয়ে National Tiger Conservation Authority (NTCA) এর সদস্য কামাল আজাদ বলেন, ‘গত বছর নাগাল্যান্ডে রয়েল বেঙ্গল থাকার কথা জানা গিয়েছিল। তবে তার ছবি মেলেনি। নাগাল্যান্ড বা মণিপুরে রয়েল বেঙ্গল থাকার কথা আগে কখনোই শোনা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে বাঘটি ঘটনাস্থল থেকে ১০০ কিমি দূরের আসামের কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্ক থেকে পালিয়ে এখানে এসেছে।‘