advertisement
আপনি পড়ছেন

দীর্ঘদিন ধরে তীব্র সমালোচিত হয়ে রোহিঙ্গা সংকটে জাতির উদ্দেশ্যে অবশেষে মুখ খুলতে বাধ্য হলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে তিনি আজ এক টেলিভিশন চ্যানেলে বলেছেন, 'রাখাইন থেকে মুসলিমরা কেন বাংলাদেশে পালিয়ে যাচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করা হবে।'

Aung San Suu Kyi on mike

সু চি তার ভাষণে অত্যন্ত সূক্ষ কৌশল ব্যবহার করেছেন। তিনি একবারের জন্যও রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেননি, রাখাইনে গণহত্যার জন্য নিন্দা জানাননি, এমনকি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকের মার্যাদা দিয়ে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসনের কোন আশ্বাসও দেননি।

সু চি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, 'মিয়ানমারে জাতিগত সংখ্যালঘু নিধনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আছে। সবার কথাই শুনতে হবে। সবকিছু না জেনে আগেই কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। যে কোন ব্যবস্থা নেয়ার আগে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে অভিযোগগুলো কতোটা তথ্য-প্রমাণনির্ভর।'

জাতির উদ্দেশ্যে সু চির ভাষণে রাখাইনে সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণের বিষয় সম্পর্কে তিনি বিশেষ অবগত নন, এমন ভান করে জানিয়েছেন, রাখাইন থেকে মুসলমানদের বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার খবরে মিয়ানমার সরকার উদ্বিগ্ন। পালিয়ে যাওয়া মুসলিমদের সত্যাসত্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া যেকোন সময় শুরুর ব্যাপারে মিয়ানমার প্রস্তুত রয়েছে।

সু চি এ সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সত্যিকার পরিস্থিতি কি তা জানতে রাখাইন পরিদর্শনে যাওয়ার আহ্বান জানান, এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে বলেও অশ্বাস দিয়েছেন তিনি।