advertisement
আপনি পড়ছেন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অপারেশনের নামে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চলমান অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার বা ১২৩ কোটি টাকা বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক একাধিক গণমাধ্যম।

saudi badshah salman

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সৌদি বাদশার ত্রাণ ও মানবিক কর্মসূচী কেন্দ্রের জেনারেল সুপারভাইজর ও রয়্যাল কোর্টের উপদেষ্টা ড. আব্দুল্লাহ আল রাবিয়াহ জানান, রোহিঙ্গা মুসলমানদের সহায়তায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি বাদশা।

তিনি বলেন, 'খুব শিগগিরি রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে বিশেষ একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। জরুরী ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের কী প্রয়োজন তা উপলব্দি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং তাদের ত্রাণ সহায়তা দিতে দলটি সেখানে যাবে।'

তিনি আরও বলেন, ’রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান আনতে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে সৌদি বাদশা। খুব শিগগিরি আরও কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।’

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, সৌদি আরবের সাপ্তাহিক মন্ত্রীসভার বৈঠকে মিয়ানমারের মুসলিমদের ওপর চলমান সহিংসতার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই বর্বতা বন্ধে এবং দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিকদের যথাযথ অধিকার আদায়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলমানদের অবৈধ অভিবাসী মনে করে। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশের কমপক্ষে ৩০টি তল্লাশি চৌকি ও সেনাক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা হামলায় চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মিয়ানমার। এই হামলায় ১২ জন পুলিশ নিহত হন। এরপরই দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও রাখাইনের বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে। প্রাণ ভয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে।

জাতিসংঘের মহাসচিবও রাখাইনে জাতিগত নিধন ও গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, 'রাখাইনে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে মিয়ানমার। অবিলম্বে তাদের এই সহিংস রাস্তা পরিহারের আহ্বান জানানো হচ্ছে।' এছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও মিয়ানমারকে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের অধিকার বাস্তবায়নে আনান কমিশন বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের এক বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ছয় দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, 'এই জাতিগত নির্মূল অভিযানের অবসান হ্ওয়া দরকার। এই সমস্যার শুরু হয়েছে মিয়ানমারে এবং সেখানেই এর সমাধান করতে হবে।'