advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 20 মিনিট আগে

বাবা ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করতে শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে গিয়েছিল প্রাণবন্ত ও চঞ্চল ছোট্ট মুকাদ। কিন্তু কে জানে তার আর ফের হবে না। মসজিদে হায়েনার আক্রমণ হবে।

mucad ibrahim newzealand

ওই দিন উগ্রবাদী খ্রিস্টান সন্ত্রাসীর নৃশংসতার শিকার হয়ে যেসব মুসলিম প্রাণ হারিয়েছেন, তিন বছরের ছোট্ট মুকাদ ইব্রাহিম তাদের একজন। কিন্তু তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় একদিন পর, শনিবার।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল বলছে, প্রথমে তার পরিবার মনে করেছিল, মুকাদ নিখোঁজ রয়েছে। শনিবার নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, মুকাদের খোঁজ পাওয়া গেছে, কিন্তু জীবিত নয়, মৃত।

mucad and abdi ibrahim newzealand

বড় ভাই আবদি ইব্রাহিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তোলা একটি ছবি শেয়ার করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং আল্লাহর কাছেই ফিরে যাব। তোমাকে সবাই খুব মিস করব ভাই।'

পরিবারের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, ওই দিন বর্বর ব্রেনটন টারান্ট যখন হামলা শুরু করে তখন ভীত হয়ে পালাতে চেয়েছিল মুকাদ। কিন্তু নিষ্ঠুর টারান্ট নিষ্পাপ এই শিশুটিকেও ছাড়েনি। গুলিতে বাবার কোলেই লুটিয়ে পড়ে সে।

আর মৃতের ভান করে ওই জঘন্য হামলা থেকে বেঁচে যান মুকাদের বাবা ও বড় ভাই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা টারান্টের হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী মুকাদ। শনিবার যখন তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে তখন অনেকেই তার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিতে থাকেন।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ডানপন্থী উগ্রবাদী সন্ত্রাসী টারান্ট ওই দিন আল নুর মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান থেকে নির্বিচার গুলি চালায়। এতে ৪১ জনের মৃত্যু হয়। শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি টারান্ট, বরং ওই হত্যাযজ্ঞের ১৭ মিনিটের ঘটনা সরাসরি লাইভ প্রচার করেছে।

অন্যদিকে, প্রায় কাছাকাছি সময়ে পার্শ্ববর্তী লিনউড মসজিদেও হামলা চালানো হয়। এতে সাতজন নিহত হয়। আর উভয় হামলা মিলে ৪৮ জন গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে মনে করা হচ্ছে।

sheikh mujib 2020