advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 59 মিনিট আগে

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের মধ্যে ছিলেন ১৬ বছর বয়সী হামজা। সঙ্গে ছিলেন বাবা খালেদ (৪৪) এবং ১৩ বছর বয়সী ছোট ভাই জাইদ। আর ঘরে ছিলেন তার মা সালওয়া মুস্তাফা।

hamza new zealand

নামাজের মধ্যে মুসল্লিদের ওপর স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান থেকে নির্বিচার গুলি চালাতে থাকে অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত উগ্রবাদী সন্ত্রাসী ব্রেনটন টারান্ট। এ সময় মাকে ফোন করেন হামজা।

বলেন, ‘মা, কেউ একজন মসজিদের ভেতর আসছে এবং সে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করছে। আর আমি পায়ে গুলি লাগা জাইদকে (ছোট ভাই) নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছি।’

সালওয়া বলেন, ‘এর পর আমি শুধু গুলি ও তার চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। তার পর আমি তার কোনো আওয়াজ শুনতে পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘আমি হামজা, হামজা বলে ডাকি, কিন্তু খুব ক্ষীণ কণ্ঠ শুনতে পাই এবং এক পর্যায়ে পুরোপুরি নিস্তব্ধ হয়ে যায়।’

এর পর সালওয়া তার ছেলের সঙ্গে ২২ মিনিট ধরে কথা বলার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, ‘তার ফোন চালু ছিল, কিন্তু আমি তার সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। এক পর্যায়ে কেউ একজন ফোনটি রিসিভ করেন এবং আমাকে বলেন, আপনার ছেলে বেঁচে নেই।’

আর এই ফাঁকে তার স্বামীও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

ক্রাইস্টচার্চের হাসপাতালে তার ছোট ছেলে জাইদ চিকিৎসাধীন, যার পায়ে গুলি লেগেছে এবং কোনো রকম সে পালাতে সক্ষম হয়। এই হাসপাতালেই রোববার নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যম স্টাফ.কো.এনজেড-কে সালওয়া বলেন, ‘আমাদের জীবন পুরোপুরি ওলট-পালট হয়ে গেল।’

তিনি জানান, হামজা ক্যাশমেয়ার হাইস্কুলের ছাত্র ছিল। খুবই চমৎকার ছেলে।

সালওয়া বলেন, ‘হামজাকে সবাই ভালোবাসতো, সে খুব যত্নশীল ও বিনয়ী ছিল। আমার হামজার মতো পৃথিবীতে আর কিছুই নেই।’

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলা চালায় উগ্রবাদী সন্ত্রাসীরা। এতে অন্তত ৫০ জন মুসল্লি নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হামলাকারী সম্পর্কে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে মাত্র কয়েক মাস আগে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমানো ওই সিরীয় শরণার্থী বলেন, হামলাকারীর ব্যাপারে তার কিছু বলার নেই।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তার শাস্তি দেবেন, আমার স্বামী ও সন্তান এখন জান্নাতে আছেন; আমরাও তাদের কাছে যাচ্ছি, তাদেরকে অনুসরণ করে আমরাও জান্নাতে (তাদের কাছে) যাচ্ছি।’

তবে দেশটিতে সিরিয়ান সলিডারিটির মুখপাত্র আলী আকিল বলছেন, এই ঘটনাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক না।

লোকজনকে নিরাপদ করতে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

আকিল বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার নিরাপদ বোধ করছে না, সোমবার আমার সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যেতে হবে- কিন্তু আমার স্ত্রী আতঙ্কিত। সকল মুসলিম, সকল অভিবাসী এবং এই দেশের সকল বর্ণের মানুষ এই মুহূর্তে নিরাপদ বোধ করছি না।’

sheikh mujib 2020