advertisement
আপনি দেখছেন

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার এক সপ্তাহ পূর্ণ হচ্ছে আজ শুক্রবার। ভয়াবহ হামলার সপ্তাহপূর্তিতে দেশটির প্রায় সবগুলো জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হয়েছে ‘সালাম ও শান্তি’র কথা। বাকি জায়গাগুলো একেবারেই খালি রাখা হয়েছে।

salam pice new ziland

গেল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আল নুর ও লিনউড মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর ভয়াবহ ও বর্বর সন্ত্রাসী হামলা চালায় এক মুসলিমবিদ্বেষী অস্ট্রেলীয় বন্দুকধারী। এতে অন্তত ৫০ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হন। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে নিউজিল্যন্ডসহ গোটা পৃথিবী ধিক্কার জানায়।

হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন সংসদে দেয়া এক বক্তব্যে নিহত মুসলমানদের সম্মান জানাতে আসসালামু আলাইকুম বলে বক্তব্য শুরু করেন। এমনকি হিজাবের মতো মাথা ঢেকে সামনে আসেন তিনি। এছাড়া গোটা দুনিয়াকে শান্তির বার্তা দিতে সেদেশের সংসদে ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআন তেলাওয়াত এবং নামাজ আদায় করা হয়।

salam pice new ziland 1

এরই ধারাবাহিকতায় ওই হামলার ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ও মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানিয়ে আজ নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যগুলো ‘সালাম, শান্তি’র কথা প্রচার করলো। দেশটির জাতীয় দৈনিক ‘দ্য প্রেস’র প্রথম পাতায় আরবি ভাষায় বড় আকারে ‘সালাম’ লেখা হয়েছে। তার নিচেই আবার ইংরেজিতে ছোট করে লেখা রয়েছে ‘সালাম, শান্তি’।

নিহতদের জন্য প্রার্থনা করতে জুমার নামাজের সময় হামলার স্থানে উপস্থিত হয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ হাজারো কিউই নাগরিক। মুসলমানদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে সম্প্রীতির এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেন তারা। অন্য ধর্মের নারীরাও মাথায় হিজাব পড়ে মুসলমানদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া মুসলমানদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে আজান এবং জুমার নামাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ফলে একই সময় সারাদেশ আজানের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে। জুমার নামাজেও ছিল মানুষের ঢল। মুসল্লিদের প্রতি সংহতি জানাতে হেগলি পার্কে বিভিন্ন ধর্মের কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হন।

সব মিলিয়ে মসজিদে হামলার পর গত এক সপ্তাহে নিউজিল্যান্ড যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, এ বিষয়টিকে ইসলামের পুনর্জাগরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির অনেক মুসলমান। তারা বলছেন, দেশটির ন্যায়সঙ্গত শক্তিশালী ভূমিকায় ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষীরা কড়া জবাব পেয়েছে। মুসলমানদের সম্পর্কে সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে।