advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 12 মিনিট আগে

ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নৃশংস হামলায় নিহতদের জন্য প্রার্থনা করতে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় হামলার স্থানে উপস্থিত হয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ হাজারো কিউই নাগরিক। মুসলমানদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে সম্প্রীতির এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেন তারা। অন্য ধর্মের নারীরাও মাথায় হিজাব পড়ে মুসলিমদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

 pm with kiwi

স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে আল নূর মসজিদের বিপরীতে হ্যাগলি পার্কে জনসাধারণের সঙ্গে সমবেত হয়ে মুসলমানদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডার্ন বলেন, ‘পুরো নিউজিল্যান্ড আপনাদের সঙ্গে শোকাহত। আমরা সবাই এক।’

এ সময় টেলিভিশন ও রেডিওতে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখেন নিউজিল্যান্ডের হাজার হাজার মানুষ। দেশটির রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশনে জুমার আযান প্রচার করা হয়। প্রার্থনা শেষে হামলায় নিহতদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

pm with kiwi 1

হামলার স্থান আল নূর মসজিদে কয়েকশ’ মানুষ জুমার নামাজ আদায় করেন। ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের হুইলচেয়ারে চড়েও এক ব্যক্তিকে সামনের সারিতে নামাজ পড়তে দেখা যায়। আল নূর মসজিদের ইমাম জামাল ফৌদা তাদের সমর্থনের জন্য নিউজিল্যান্ডবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

ইমাম বলেন, ‘এই সন্ত্রাসী আমাদের জাতিকে একটি খারাপ মতাদর্শ দিয়ে বিভক্ত করে তুলতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিবর্তে আমরা দেখিয়েছি যে, নিউজিল্যান্ডে এটি সম্ভব নয়। আমাদের হৃদয় ভেঙেছে, কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা জীবিত। আমরা একসঙ্গে রয়েছি। কেউ যেন আমাদের বিভক্ত করতে না পারে সে বিষয়ে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ এ সময় উপস্থিত নিউজিল্যান্ডবাসী ইমামের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর জেসিন্ডা আরডার্ন ঘোষণা দেন, ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলায় ব্যবহৃত সামরিক ধরনের আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও উচ্চ ক্ষমতা ম্যাগাজিনের মতো অস্ত্র শিগগিরই তার দেশে বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হবে। পরবর্তী মাসের মধ্যেই নতুন আইনটি কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নামে এক উগ্রবাদী শ্বেতাঙ্গ নির্বিচার গুলি চালায়। এতে পাঁচজন বাংলাদেশিসহ অন্তত ৫০ জন নিহত ও অর্ধ-শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এপি, ইউএনবি।

sheikh mujib 2020