advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 14 মিনিট আগে

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নৃশংস হামলার এক সপ্তাহ পূর্তিতে নিহতদের জন্য প্রার্থনা করতে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় হামলার স্থানে উপস্থিত হয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। এ সময় হিজাবের মতো মাথা ঢেকে সবার সামনে আসেন তিনি।

prime minister jacinda ardern

এই ঘটনায় মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়ে সারাবিশ্বের মন জয় করে নিলেও তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। নিউজিল্যান্ডের প্রধান সংবাদ মাধ্যম ওটাগা টাইমস এই খবর জানিয়েছে।

দেশটির পুলিশ জানায়, ক্ষুদে ব্লগিং সাইট টুইটারে একটি বন্দুকের ছবি পোস্ট করে তার ক্যাপশনে লেখা হয় ‘পরবতী লক্ষ্য আপনি’। এর মাধ্যমে মূলত দেশটির প্রধানমন্ত্রীকেই হুমকি দেয়া হয়।

এই ঘটনার পর বিভিন্ন মানুষ ওই অ্যাকাউন্টটিতে রিপোর্ট করে। পরে টুইটার অ্যাকাউন্টটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। তার আগে অবশ্য হুমকি দেয়া ওই পোস্টটিও সরিয়ে ফেলে টুইটার। এরপর টুইটার ফিরতি টুইট করে জানায় ‘আমরা নিউজিল্যান্ডের পাশে আছি’।

এদিকে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় হামলার স্থানে উপস্থিত হয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ হাজারো কিউই নাগরিক। মুসলমানদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে সম্প্রীতির এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেন তারা। অন্য ধর্মের নারীরাও মাথায় হিজাব পড়ে মুসলিমদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন সংসদে দেয়া এক বক্তব্যে নিহত মুসলমানদের সম্মান জানাতে আসসালামু আলাইকুম বলে বক্তব্য শুরু করেন। এমনকি হিজাবের মতো মাথা ঢেকে সামনে আসেন তিনি। এছাড়া গোটা দুনিয়াকে শান্তির বার্তা দিতে সেদেশের সংসদে ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআন তেলাওয়াত এবং নামাজ আদায় করা হয়।

এছাড়া মুসলমানদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে আজান এবং জুমার নামাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ফলে একই সময় সারাদেশ আজানের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে। জুমার নামাজেও ছিল মানুষের ঢল। মুসল্লিদের প্রতি সংহতি জানাতে হেগলি পার্কে বিভিন্ন ধর্মের কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হন।

সব মিলিয়ে মসজিদে হামলার পর গত এক সপ্তাহে নিউজিল্যান্ড যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, এ বিষয়টিকে ইসলামের পুনর্জাগরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির অনেক মুসলমান। তারা বলছেন, দেশটির ন্যায়সঙ্গত শক্তিশালী ভূমিকায় ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষীরা কড়া জবাব পেয়েছে। মুসলমানদের সম্পর্কে সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে।

sheikh mujib 2020