advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 32 মিনিট আগে

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া তথা ব্রেক্সিট ইস্যুতে এবার ক্ষমতা হারাতে যাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। কারণ তার নিজ দল কনজার্ভেটিভ পার্টিরই অন্তত ১১ জন মন্ত্রী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করছেন।

thresa may britain

বিবিসি ও স্কাই নিউজসহ ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

গার্ডিয়ান বলছে, গতকাল শনিবার রাজপথে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ব্রেক্সিট ইস্যুতে দ্বিতীয় গণভোটের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করে এ ধরনের বড় বিক্ষোভ হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এর আগে থেরেসা মে বলেন, ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্রিটেনের জনগণ আর গণভোট চাইবে না, বরং তার প্রস্তাবে সমর্থণ দেবে। তার পরই দ্বিতীয় গণভোটের দাবিতে অপ্রত্যাশিতভাবে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে বলে আয়োজকরা দাবি করেছেন।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলেছে, কনজারভেটিভ পার্টির অনেক সিনিয়র নেতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, থেরেসা মে পদত্যাগের প্রতিশ্রুতি দিলেই কেবল তার ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমর্থন দেবেন তারা।

স্কাই নিউজের বরাত দিয়ে পার্সটুডে বলছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে থেরেসার বিরুদ্ধে কয়েকজন মন্ত্রী যে প্রচেষ্টা নিয়েছেন তাকে মন্ত্রপরিষদের অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, এমন অভ্যুত্থান বা পরিকল্পনার কারণে থেরেসা মে’র জন্য ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের দিন ফুরিয়ে এসেছে। আগামী কয়েক দিন পরই তাকে ছাড়তে হতে পারে প্রধানমন্ত্রীত্ব।

বিবিসি ও স্কাই নিউজ বলছে, থেরেসাকে সরিয়ে দিয়ে সে পদে অন্তর্বর্তী হিসেবে ডেভিড লিডিংটন অথবা মাইকেল গভকে বসানো হতে পারে।

অন্যদিকে, সানডে টাইমস দাবি করেছে, ১১ জন মন্ত্রী গণমাধ্যমটিকে বলেছেন, তারা চান প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পদ থেকে সরে দাঁড়ান যাতে এ পদে নতুন কাউকে বসানোর পথ তৈরি হয়।

বিবিসি বলছে, থেরেসা মে তার ব্রেক্সিট চুক্তি এর আগে দুই বার পার্লামেন্টে উত্থাপন করে বিপুল ভোটে হেরে গেছেন। তিনি তৃতীয়বারের মতো বিষয়টিকে পার্লামেন্টে এনে পাস করানোর চেষ্টা করবেন- এমন জল্পনাকে কেন্দ্র করে তার নিজ দলের মধ্যেই অসন্তোষ ক্রমাগত বাড়ছে।

এমনকি তার মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যরাও এখন তার প্রধানমন্ত্রীত্ব নিয়ে আপত্তি গোপন করতে পারছেন না।

অবশ্য, খবরে বলা হয়েছে, থেরেসা মে যদি এই বিরোধিতাকে আমলে না নেন এবং তার পদ আঁকড়ে থাকেন তাহলে এই অসন্তুষ্ট মন্ত্রী-এমপিরা কী করবেন, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে কিছু এমপি বলছেন, তারা হয়তো অনিচ্ছাসত্ত্বেও মে'র ব্রেক্সিট চুক্তিটি তৃতীয়বার ভোটে উঠলে সমর্থন দিতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে শর্ত হবে এই যে, ইইউ’র সঙ্গে পরবর্তী আলোচনায় তিনি আর ব্রিটেনকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না।

sheikh mujib 2020