advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 14 মিনিট আগে

গোলান মালভূমিতে দখলদার ইসরায়েলকে পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরব রাষ্ট্রগুলোতে নিন্দার ঝড় বইছে। সেইসঙ্গে ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

golan height 1

সৌদিভিত্তিক আরব নিউজ বলছে, দখলকৃত গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের সীমানা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আরব রাষ্ট্রগুলো আমেরিকার যে নিন্দা জানিয়েছে তার সঙ্গে মঙ্গলবার যুক্ত হয়েছে সৌদি আরবও।

সৌদি সরকারি গণমাধ্যম এসপিএ’র বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে রিয়াদ। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক রেজ্যুলেশন অনুযায়ী গোলান মালভূমি যে দখল করা সিরীয় আরব ভূখণ্ড- সে ব্যাপারে সৌদি আরবের অবস্থান পাল্টাবে না।

সৌদি আরব বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের মূলনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। সেইসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করার পাশাপাশি এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

প্রসঙ্গত, কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক ঐক্যমতকে উপেক্ষা করে ট্রাম্প গতকাল সোমবার ওই স্বীকৃতি দেন। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েলের মধ্যকার ছয় দিনের যুদ্ধের সময় সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা গোলান মালভূমির দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে নেয় ইসরাইল। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গোলানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দেয়নি।

আরব নিউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মঙ্গলবার সরকারিভাবে নিন্দা ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

অন্যদিকে, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ও্আইসি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গোলান যে সিরিয়া ও আরব ভূমি সে অবস্থান বদলাবে না ওআইসি।

এ ছাড়া আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত বলেছেন, (গোলান) যে অবৈধভাবে দখল করা ভূখণ্ড, এই সিদ্ধান্তের (ট্রাম্পের) ফলে অবস্থার পরিবর্তন হবে না।

সিরিয়া বলেছে, এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হামলা।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘দখলদারিত্বকে বৈধতা দেওয়ার কোনো অধিকার বা বৈধ কর্তৃত্ব ট্রাম্পের নেই।’

লেবানন বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ‘আন্তর্জাতিক আইনের সকল নীতিমালার লঙ্ঘন’ এবং ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছার প্রচেষ্টাকে অগ্রাহ্যকরণ’।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘গোলান মালভূমি সিরীয় আরব ভূখণ্ড, কোনো সিদ্ধান্তে সেটা পরিবর্তন হতে পারে না, এবং কোনো দেশ এক দেশের ভূমির মালিকানা অন্য দেশকে হস্তান্তরের মাধ্যমে ইতিহাস পাল্টাতে পারে না।’

এ ছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, তার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এর মাধ্যমে ট্র্রাম্প ঔপনিবেশিক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

sheikh mujib 2020