advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 01 মিনিট আগে

মিশর সরকারের সাঁড়াশি অভিযানে বিগত সাড়ে তিন বছরে অন্তত ৪৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের বেশির ভাগই মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য।

eypt sisi

দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসির প্রশাসন দাবি করছে, যারা গেছে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি তথা বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। কিন্তু সিসি সরকারের এই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার অনেক ক্ষেত্রেই কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গণমাধ্যমটি বলছে, জুলাই ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত ১০৮টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৪৭১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যার মাত্র ৬ জন বেঁচে গেছেন। অর্থাৎ মারা গেছে ৪৬৫ জন। তার মানে, অভিযানে মৃতের হার ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

মিশরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতরা ‘ইসলামিক জঙ্গি অথবা অপরাধী’। আর নিরাপত্তা বাহিনী আত্মরক্ষার প্রয়োজনে গুলি চালিয়েছে। কিন্তু হতাহতদের পরিবার, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও কিছু কর্মকর্তাও এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

হতাহতের এসব খবর সিসি সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা সরকারি গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে। আর সেটা বিশ্লেষণ করেই রয়টার্স সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা অনুসন্ধানী ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের জুন মাসে সিসির মিত্র প্রধান প্রসিকিউটর হিশাম বারাকাত গাড়ি বোমা হামলায় নিহতের পর থেকেই ওই হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। এর আগে ২০১৩ সালে দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হলে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করা হয়।

হতাহতদের পরিবারগুলো বলছে, তাদের ছেলেরা কখনো অস্ত্র ব্যবহার করেনি। তারপরও তাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের রাস্তা বা অন্য কোনো স্থান থেকে ধরে নিয়ে হচ্ছে। পরে অনেক দিন তাদের কোনো খবর থাকে না। এর পর একদিন মৃতের খবর পাওয়া যায়।

মিশরীয় একটি মানবাধিকার সংগঠনের গবেষক বলেন, যেসব পুলিশ এসব ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত’ তারা জানে- এর জন্য কাউকে জবাবদিহী করতে হবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশরের মানবাধিকারের বিষয় নিয়ে মার্চ মাসে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট যে সর্বশেষ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাতেও দেশটির সরকার ও তাদের এজেন্টের (গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী) নির্বিচার এবং বেআইনি হত্যা ও নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

sheikh mujib 2020