advertisement
আপনি দেখছেন

ভারতের হায়দ্রাবাদে চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় দেশজুরে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার দ্রুত বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। রোববার অভিযুক্ত এক ধর্ষকের মা বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে ছেলে জড়িত থাকলে তাকেও যেন পুড়িয়ে মারা হয়।

doctor girl rappedবিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ

দেশটির গণমাধ্যম এনডিটিভি থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে অভিযুক্ত ওই ধর্ষকের মাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার ছেলে দোষী হলে তাকেও পুড়িয়ে মারা উচিত। নিহত তরুণীও তো কারো না কারো মেয়ে। এখন আমি কষ্ট পাচ্ছি। বুঝতে পারছি, ওই তরুণীর মা কতটা কষ্ট পাচ্ছেন।’

আরেক অভিযুক্ত চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলুর মা বলেছেন, ‘আমার ছেলেকে উপযুক্ত শাস্তি দিন। আমারও মেয়ে আছে।’

এদিকে, দ্রুত বিচার আদালতে এ মামলার বিচার হবে বলে জানিয়েছেন তেলেঙ্গানা প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্র শেখর রাও।

গণমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রিমান্ডে দেয়া ধর্ষকদের জবানবন্দির একটি কপিও তাদের হাতে এসেছে। সেখানে ধর্ষণের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে।

জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে এক চর্ম বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করার জন্য টোল বুথের কাছে নিজের স্কুটারটি রেখে যান ওই তরুণী। সেখান থেকে ভাড়ায় চালিত একটি ট্যাক্সি নিয়ে ওই চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। পরবর্তীতে রাত সোয়া ৯টার দিকে ফেরার পথে দেখতে পান তার স্কুটারটির চাকা পাংচার।

এ সময় মোহাম্মদ আরিফ, জল্লু শিবা, জল্লু নবীন এবং চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলু নামের চার ট্রাক চালক মদ্যপ অবস্থায় ওই তরুণীকে সাহায্য করতে চান বলে জানান। তখন তাদের মধ্যে তিনজন তাকে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী একটি ঝোপ-ঝাড়ে নিয়ে যান। তরুণীটি সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে তার মুখে হুইস্কি ঢেলে দেয়া হয়। পরে অজ্ঞান হওয়ার আগ পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। জ্ঞান ফিরে আসলে প্রথমে তরুণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পাষণ্ড ধর্ষকরা।

পরবর্তীতে নিথর দেহটি কম্বলে মুড়িয়ে পাশের সেতুর নিচে ফেলে দেয় তারা। সেখানে ডিজেল ও পেট্রল ঢেলে তরুণীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা।

হায়দ্রাবাদ পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে দু’জন পেশায় ট্রাকচালক। বাকি দু’জন খালাসি। ধর্ষকদের প্রত্যেকের বয়স ২০ থেকে ২৬ এর মধ্যে।