advertisement
আপনি দেখছেন

জনগণের বিরোধীতা সত্ত্বেও মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নিরাপত্তা আইন চালু করেছে চীন সরকার। কার্যকর হওয়া নতুন এই আইন অনুযায়ী, এবার থেকে ফোন কিনতে গেলে দেশটির গ্রাহকদের বাধ্যতামূলকভাবে ফেস স্ক্যান করতে হবে।

face scanপ্রতীকী ছবি

রোববার থেকে চালু হওয়া নতুন এই আইন নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন দেশটির নেটিজেনারা। তাদের মতে, সরকারের এই নীতির ফলে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে।

এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করতে গিয়েছিলেন দেশটির আইনের এক অধ্যাপক। তিনি জানান, এতদিন ধরে ফোন কেনার ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গ্রাহকদের আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হতো। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হলো ফেস স্ক্যান। ফলে গ্রাহকদের কোন তথ্যই আর গোপন থাকছে না।

এ বিষয়ে চীন সরকারের দাবি, দেশটির অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হ্রাস করার লক্ষ্যেই নতুন এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। ফেস স্ক্যানের মাধ্যমে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের যাবতীয় সকল তথ্য সরকারের সংগ্রহে থাকবে। ফলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কোন অপরাধ সংগঠিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে সেই অপরারীকে শনাক্ত করতে পারবে দেশটির নিরপত্তার বাহিনী।

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এর পিছনে চীন সরকারের অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে। দেশটির নাগরিকরা যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ফোনে 'দেশবিরোধী' কোন কার্যকলাপ চালাতে না পারে, সে জন্যই নতুন এই নীতি চালু করা হয়েছে। মূলত হংকংয়ে চীন বিরোধী আন্দোলনের পর পরই চীনা নাগরিকদের ওপর আরো নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফেস স্ক্যানের জন্য ইতোমেধ্যে পুরো দেশজুড়ে কয়েক লক্ষ নতুন ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চীনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে অতীতে বায়োমেট্রিক বা ফেস স্ক্যানের মাধ্যমে গ্রাহকদের তথ্য পাচারের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও তথ্য বিক্রির অভিযোগ ওঠে। তাই অনেক ব্যবহারকারীই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু চীনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকের অবশ্যই ব্যাক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে হয়।