advertisement
আপনি দেখছেন

বিরোধী দলগুলোর তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত মুসলিমবিরোধী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি ভারতের লোকসভায় পাস করিয়ে নেয় বিজেপি সরকার। সোমবার পাশ হওয়া এ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন জানায় বিজেপির এককালের শরিক শিবসেনা। কিন্তু মঙ্গলবার পুরোপুরি উল্টো সুর শোনা গেল দলটির সুপ্রিমো উদ্ধব ঠাকরের কন্ঠে।

shivsena udbav thakreশিবসেনার সুপ্রিমো উদ্ধব ঠাকরে

লোকসভায় সমর্থন জানালেও রাজ্যসভায় এই বিলের পক্ষে তাঁর দল ভোট দেবে কি না, তা পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, বিলটি নিয়ে ইতোমধ্যে বিজেপি সরকারকে কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিছু বিষয় স্পষ্ট না হলে নরেন্দ্র মোদী সরকারের দিকে আবারো সমর্থনের হাত বাড়ানো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হবে।

এ সময় বিজেপির সমালোচনা করে উদ্ধব ঠাকরে বলেন, ‘এটা বিজেপির বিভ্রম হতে পারে যে, তাদের সঙ্গে যাঁরা একমত পোষণ করেন না, তাঁরাই দেশদ্রোহী। আবার এটাও একটা বিভ্রম যে, একমাত্র বিজেপিই দেশের জন্য ভাবে।’

এদিকে, বিতর্কিত এই বিলটির সমালোচনা করে শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’ এর সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের স্বার্থবিরোধী এ বিলটির আড়ালে বিজেপি আসলে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করছে। এর ওপর ভিত্তি করে তারা হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিয়েছে।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনে পরিণত করতে হলে বিলটিকে এখন সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা থেকেও পাশ করিয়ে নিতে হবে। তারপরই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে পাড়ি জমানো অমুসলিম শরণার্থীদের দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ হয়ে যাবে।

nrc asam protest1বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল পাশের প্রতিবাদে আসামে বিক্ষোভ

প্রসঙ্গত, ১৯৫৫ সালে পাশ হওয়া নাগরিকত্ব আইনে উল্লেখ আছে, অন্য দেশ থেকে ভারতে আসা কেউ যদি নাগরিকত্ব চায় সেক্ষেত্রে তাকে কমপক্ষে ১১ বছর এ দেশে বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ ও নথিপত্র উপস্থাপন করতে হবে।

কিন্তু নতুন করে সংশোধন হওয়া এ বিলটিতে বলা হয়েছে, ভারতে টানা ৫ বছর ধরে বসবাস করা অমুসলিমরা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য অবেদন করতে পারবেন।

এদিকে বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যদি সব সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়, তাহলে সেটা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু যদি ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়, তাহলে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হবে।