advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 32 মিনিট আগে

বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহলের প্রবল বিরোধিতার মধ্যেই লোকসভায় বিতর্কিত মুসলিমবিরোধী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) পাস করিয়ে নিয়েছে ভারতের বিজেপি সরকার। এর প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই বিলটি পাসের জন্য আজ বুধবার রাজ্যসভায় পাঠানো হচ্ছে।

citizenship bill in indiaনাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ভারত

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই লোকসভায় প্রথমবার পেশ করা হলে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে বিচার-বিশ্লষণ শেষে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি লোকসভায় পাস হয়। কিন্তু উত্তর-পূর্বে রাজ্যগুলোর প্রবল বিরোধিতার মুখে বিজেপি সরকার সংযত হলে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় সিনে ডাই হয়ে যায় বিলটি। এটি পাস না করায় কার্যপ্রণালী অনুযায়ী লোকসভায় তামাদি হয়ে যায়।

কিন্তু এবার বিজেপি সরকার বলছে, বিলটি লোকসভায় পাসের পর এবার রাজ্যসভায়ও এটি পাসের ব্যাপারে তারা খুবই আশাবাদী। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, বিলের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটাভোটির সম্ভাব্য ব্যবধান কম হলেও শিবসেনা উল্টো সুরে কথা বলায় শঙ্কায় রয়েছে বিজেপি সরকার।

বলা হচ্ছে, ভারতের রাজ্যসভার ২৪৫টি আসনের মধ্যে বর্তমানে ২৪০ জন প্রতিনিধি রয়েছেন। বিলটি পাসে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১২১টি ভোট প্রয়োজন হবে। কিন্তু রাজ্যসভায় বিজেপির এককভাবে ৮১টি ভোট রয়েছে। আর জোট শরিকদের নিয়ে সব মিলিয়ে বিলের পক্ষে ১২৮টি ভোট পড়ার আশা করছে দলটি। এ ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক দিয়ে মাত্র সাতটি ভোট বেশি আছে ক্ষমতাসীন জোটের।

অন্য দিকে বিলের বিরোধী পক্ষে রয়েছে ১০৯টি ভোট। ফলে বিলটি আটকাতে তাদের প্রয়োজন আরও ১২টি ভোট। তবে বিজেপির সাবেক শরিক শিবসেনা রাজ্যসভায বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় আশাবাদী বিরোধী পক্ষও।

সব মিলিয়ে বিলের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটের ব্যবধান কম হওয়ায দুশ্চিন্তায় রয়েছে উভয় পক্ষ। অনেকেই মনে করছেন শেষ সময়ে এসে পাল্টে যেতে পারে সব ধরনের হিসাব-নিকাশ ।

এদিকে বিতর্কিত বিলটির প্রতিবাদে ইতিমধ্যে আসাম ও ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। চলছে ছাত্র সংগঠনের ডাকে ১১ ঘণ্টার হরতাল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ত্রিপুরায় ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মোবাইলের ইন্টারনেট ও এসএমএস সেবা।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৫ সালে পাশ হওয়া নাগরিকত্ব আইনে উল্লেখ আছে, অন্য দেশ থেকে ভারতে আসা কেউ যদি নাগরিকত্ব চায় সেক্ষেত্রে তাকে কমপক্ষে ১১ বছর এ দেশে বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ ও নথিপত্র উপস্থাপন করতে হবে।

কিন্তু নতুন করে সংশোধন হওয়া এ বিলটিতে বলা হয়েছে, ভারতে টানা ৫ বছর ধরে বসবাস করা অমুসলিমরা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য অবেদন করতে পারবেন।

এদিকে বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যদি সব সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়, তাহলে সেটা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু যদি ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়, তা মেনে নেয়া হবে না।

sheikh mujib 2020