advertisement
আপনি দেখছেন

স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পাপুয়া নিউ গিনির আদিবাসী দ্বীপ বোগেনভিল। এর ফলে স্বাধীনতার আরো কাছাকাছি চলে এলো তারা।

papua bougenvilleপাপুয়া নিউ গিনি ও বোগেনভিল

আজ প্রকাশিত গণভোটের ফলাফলে দ্বীপটির স্বাধীন হবার স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়েছে। গণভোট কমিটির চেয়ারম্যান বার্তি আহার্ন জানান, ভোট প্রধানকারীর ৯৮ শতাংশ স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যা সংখ্যায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯২৮। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৪৩ জন। তারা এখনও পাপুয়া নিউ গিনির অধীনে থাকতে আান। যা মোট ভোটারের মাত্র ২ শতাংশ।

ফলাফল শুনে দ্বীপের রাজধানী বুকায় উচ্ছ্বসিত জনগণ জয়োৎসব করে গান গাইতে শুরু করেন।

তবে দ্বীপটি এখনও পাপুয়া নিউ গিনির অংশ থাকায় স্বাধীনতার জন্য দেশটির অনুমোদন প্রয়োজন হবে। আর তা পেলেই স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে সলোমন সাগরের ৯ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটারের দ্বীপটি।

এর আগে সেখানে এক দশকের বেশি সময় ধরে চলে আসা রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের উদ্দেশ্যে ২০০১ সালে পাপুয়া নিউ গিনি সরকার শান্তি চুক্তির অংশ হিসাবে ওই দ্বীপের স্বাধীনতার জন্য গণভোটে আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

papua bougenville1গণভোটের ফলাফল ঘোষণায় উচ্ছ্বসিতদের একাংশ

১৯৮৮ সালে রিপাবলিক অব দ্য নর্থ সলোমন নামে দ্বীপটিকে স্বাধীনতা দিতে চাইলে পাপুয়া নিউ গিনির বিরোধিতা করে অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও দেশটির কিছু রাজনৈতিক সংগঠন। আলোচনা ভেস্তে গেলে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। আন্তর্জাতিক মধ্যস্ততায় ১৯৯৭ সালে ওই সংঘর্ষ থামে। ওই সংঘর্ষে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন।

সংঘাত শেষে দুই পক্ষের মধ্যে ‘বোগেনভিল শান্তি চুক্তি’ হয়। চুক্তি অনুসারে ২০০৫ সালে তারা স্বায়ত্তশাসন পায় এবং এ চুক্তিত একটি গণভোটের কথা উল্লেখ করা হয়। তাছাড়াও ২০২০ সালের মধ্যে তাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন সময়ে দুই হাজারেরও বেশি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

এএফপি এক খবরে জানায়, বিশ্লেষকদের ধারণা, স্বীকৃতির জন্য বিষয়টি সংসদে তোলা হলে অনেক সাংসদ পক্ষে ভোট দেবেন না। তবে গণভোটে বোগেনভিলের এমন একতরফা জয় পাপুয়া নিউ গিনির সরকারকে চাপের ওপর রাখবে বলেও মনে করছেন তারা।

sheikh mujib 2020